দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

জনগনের টাকায় হরিলুট আর অপরিকল্পিত নির্মাণ। এই ক্ষতি পূরুঁণ কে দিবে?

জনগনের টাকায় হরিলুট আর অপরিকল্পিত নির্মাণ। এই ক্ষতি পূরুঁণ কে দিবে?
অপরিকল্পিত নির্মাণ

১২ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চালিয়েও চালু করা যায়নি ভুলে ভরা দেশের প্রথম বিআরটি সড়ক। গাজীপুর থেকে টঙ্গী ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটির অবকাঠামো ভেঙে ৬লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিআরটি নির্মাণের সময়ে ব্যয়ের অঙ্কও কম নয়, প্রায় ৪হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। বিআরটি সড়কটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে,  রাস্তার উপরে রাস্তা, আবার রাস্তার মাঝখানেও আরেক রাস্তা, কোনো পথচারী যদি বিআরটি রাস্তা পার হতে চান তখন তাকে প্রথমে একদিক থেকে আসা যানবাহন দেখে রাস্তা পার হয়ে মাঝখানের রাস্তায় গিয়ে দুদিক থেকে আসা গাড়ি ঘোড়া দেখে পার হতে হবে, এরপর শেষ রাস্তা পার হতে হবে আরেক দিক থেকে আসা যানবাহন দেখে! এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একজন পথচারী রাস্তা পার হতে পারেন! আর একটু ভুল হলেই রাস্তার মাঝখানের রাস্তা পার হতে গিয়ে নির্ঘাত গাড়ি-ঘোড়ার ধাক্কায় মৃত্যু। এছাড়া গত ১২ বছরে রাস্তা পার হতে গিয়ে টঙ্গী কলেজ গেট থেকে জয়দেবপুর শিববাড়ি পর্যন্ত কত শত মানুষ যে হতাহত হয়েছেন তার হিসাবকিতাব নেই কারো কাছে!অপরদিকে বিআরটি বাস চলাচলের জন্য এমন ব্যবস্হা রাখা হয়েছে যে, বাস যাত্রীদের এক রাস্তা পার হয়ে মাঝখানের রাস্তায় গিয়ে বাসে উঠার ব্যবস্হা করা হয়েছে। এমন তুঘলকি ডিজাইনের বিআরটি প্রকল্পটি আগের সরকার পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গেছে। এই বিআরটি সড়কে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে টঙ্গী বাজার হয়ে কোনো গাড়ি-ঘোড়া উত্তরা আবদুল্লাহপুর যেতে পারেনা। একই অবস্থা গাজীপুর মুখীতেও। মানুষের যাতায়াতের জন্য টঙ্গী তুরাগ নদী পারাপারে ব্যবস্হা না রাখায় তুরাগ নদীর উপর বেইলী ব্রীজ নির্মাণ করে মানুষ পারাপারের ব্যবস্হা থাকায় বেইলি ব্রীজের কারনে তুরাগ নদীতে বড় বড় নৌকা ট্রলার চলাচল ১২ বছর ধরে বন্ধ। এমনসব ভুলেভরা বাস্তবতায় বিআরটি প্রকল্পটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি’ বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।১৮ অক্টোবর রবিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির সই করা চিঠিতে পরবর্তী করণীয় জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটি করিডোরের স্টেশন, লেন বিভাজকসহ অন্যান্য অবকাঠামো অপসারণ করে সড়কটিকে উভয় দিকে তিন লেন করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি দুটি দুই লেনের ওভারপাসকে চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে।দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণ চললেও যাত্রী পরিবহনে বিআরটি সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।

আরও  পড়ুন,কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

 এখন সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনি জটিলতা নিরসন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এসব অবকাঠামো অপসারণ করে সড়কটিকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চারটি বিকল্প বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো— প্রকল্পের কাজ শেষ করা, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস রুট চালু করা, সড়কটিকে এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা এবং বিআরটির অবকাঠামো অপসারণ করে সাধারণ মহাসড়ক করা। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ বিকল্পটি বেছে নিয়েছে সরকার।তবে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসন করতে হবে। এ প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পের সমাপ্তি ঘোষণা (প্রজেক্ট ক্লোজার) করার কথা বলা হয়েছে।মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ১৪ বছরেও চালু হয়নি বাসসেবাঃ১২ বছর নির্মাণ সময়সীমা নির্ধারণ করে ২০১২ সালে শুরু হওয়া গাজীপুর-ঢাকা বিমানবন্দর বিআরটি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও চালু হয়নি বিআরটি বাসসেবা। ওই সময় প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছিল। এতে ব্যয় হয় ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরপর আর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ব্যস্ত এই অংশে বিআরটির জন্য নির্মিত নির্দিষ্ট লেন বর্তমানে সব ধরনের যানবাহনের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুতগতির বিশেষ বাসসেবা চালু, যা বাস্তবায়িত হয়নি।৷৷৷ এ রুটে চলাচলের জন্য দুই দফা বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণ চললেও যাত্রী পরিবহনে বিআরটি সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনি জটিলতা নিরসন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এসব অবকাঠামো অপসারণ করে সড়কটিকে সাধারণ ৬লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে। বিগত ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস সরকারের আমলে ভুলেভরা বিআরটি সড়ক প্রকল্পটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ভুলেভরা বিআরটি সড়ক প্রকল্পটি ভেঙে ফেলার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আলহামদুলিল্লাহ বলে শুকরিয়া আদায় করছেন, আবার অনেকে মিশ্র প্রতিক্রি ব্যক্ত করেছেন। বিআরটির ভুক্তভোগীদের বক্তব্য হচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছেন বিএনপি তারেক রহমানের সরকার।। বিআরটির দুর্ভোগ বিবেচনায় অনেকে বলছেন, এটি বিএনপি সরকারের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। নাজমা বেগম নামে এক গৃহিণী ফেসবুকে মন্তব্য করে লিখেছেন "আলহামদুলিল্লাহ", দেওড়ার সাবেক টঙ্গী পৌরসভা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হাবিবুর রহমান লিখেছেন, দিন শেষে ঋণের বোঝাঁ সাধারণ জনগনের, ভাংঙ্গবে গড়বে জনগনের টাকা,কিন্তু দায়বদ্ধতা কারও নেই? ফজলুল হক চিশতি লিখেছেন, ভালো কথা, ১৪ বছরে নির্মাণ করেছেন ভাংগে সময় কম নিয়েন"। আমিনুল ইসলাম সামি লিখেছেন, "অনেকে বলছেন ৯৭% কাজ শেষ। এখন এটা ভেঙে   টাকা খরচ করে নতুন রুপ দেওয়া ঠিক হবেনা। আসলে এইটার ডিজাইন টা ই ভুল ছিলো, এটা যদিও চালু হইতো তবুও এর সুফল গাজীপুর বাসী পেতো না। শুধু প্রতিদিন নানান নকশা জটিলতায় এক্সিডেন্ট ও রাস্তা-পারাপারে অসংখ্য লাশ উপহার দিতো" আবদুল্লা আল হাতেম শুকরিয়া জানান দিয়ে লিখেছেন "আলহামদুলিল্লাহ"।বিআরটি ভেঙে ফেলার খবরে আকবর হোসেন লিখেছেন, "Good news".শওকত সিকদার লিখেছেন, "সুন্দর একটা পদক্ষেপ"। নূরুল ইসলাম নোভেল লিখেছেন, "আপনার লেখালেখির ফলাফল এটা"। জাহিরুল ইসলাম লিখেছেন, "সফিউদ্দিনের সামনে থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত উড়াল সড়ক থাকবে না ভেঙে ফেলা হবে"। মিজান আজাদ সরকার বিআরটি ভেঙে ফেলার খবরে শুকরিয়া আদায় করে বলেছেন, "আলহামদুলিল্লাহ"। জিনাত হোসেন মন্তব্য করছেন, বিআরটিএ প্রকল্প বাদ দিয়ে এক্সপ্রেস অয়ে করা হোক"। জিনাত হোসেন লিখেছেন, "বিআরটির এ প্রকল্প বাদ দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে করা হোক"। কায়েস হোসেন মন্তব্য করছেন, "এর সহজ সমাধান আছে। বি আর টির মাঝের লেন বাদ দিয়ে ৪ লেনের রাস্তার মত করে ইম্প্রোভাইজ করা সম্ভব। আর এর আসল ডিজাইনারকে ধরে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। এর ভুল ডিজাইনের জন্য কত মানুষের প্রান গেলো"। শামীম ইশতিয়াকের মন্তব্য, "বড় ভাই উত্তরা BNS সেন্টারের সামনে থেকে টঙ্গী কলেজ গেইট পর্যন্ত ব্রীজসহ যেন ভাঙ্গা হয়। তারপর নতুন করে ৬ লেনের নতুন রাস্তা করার পক্ষে আমি"।শত হাজার মানুষের প্রশ্ন যাদের কারনে এই ভুল ডিজাইনের বিআরটি নির্মিত হয়েছে তাদের কি শাস্তির আনা হবেনা? বিআরটি নির্মাণে ১২ বছরের দুর্ভোগ শেষে আবার বিআরটি সড়ক ভেঙে ৬লেনের সাধারণ মহাসড়ক নির্মাণ করতে আবার কত বছর টঙ্গী গাজীপুরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় একমাত্র আল্লাহই জানেন। তারপরও আল্লাহ ভরসা আলহামদুলিল্লাহ, দুর্ভোগ দূর হউক!জনগনের টাকায় হরিলুট আর অপরিকল্পিত নির্মাণ। এই ক্ষতি পূরুঁণ কে দিবে?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


জনগনের টাকায় হরিলুট আর অপরিকল্পিত নির্মাণ। এই ক্ষতি পূরুঁণ কে দিবে?

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

১২ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চালিয়েও চালু করা যায়নি ভুলে ভরা দেশের প্রথম বিআরটি সড়ক। গাজীপুর থেকে টঙ্গী ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটির অবকাঠামো ভেঙে ৬লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিআরটি নির্মাণের সময়ে ব্যয়ের অঙ্কও কম নয়, প্রায় ৪হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। বিআরটি সড়কটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে,  রাস্তার উপরে রাস্তা, আবার রাস্তার মাঝখানেও আরেক রাস্তা, কোনো পথচারী যদি বিআরটি রাস্তা পার হতে চান তখন তাকে প্রথমে একদিক থেকে আসা যানবাহন দেখে রাস্তা পার হয়ে মাঝখানের রাস্তায় গিয়ে দুদিক থেকে আসা গাড়ি ঘোড়া দেখে পার হতে হবে, এরপর শেষ রাস্তা পার হতে হবে আরেক দিক থেকে আসা যানবাহন দেখে! এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একজন পথচারী রাস্তা পার হতে পারেন! আর একটু ভুল হলেই রাস্তার মাঝখানের রাস্তা পার হতে গিয়ে নির্ঘাত গাড়ি-ঘোড়ার ধাক্কায় মৃত্যু। এছাড়া গত ১২ বছরে রাস্তা পার হতে গিয়ে টঙ্গী কলেজ গেট থেকে জয়দেবপুর শিববাড়ি পর্যন্ত কত শত মানুষ যে হতাহত হয়েছেন তার হিসাবকিতাব নেই কারো কাছে!অপরদিকে বিআরটি বাস চলাচলের জন্য এমন ব্যবস্হা রাখা হয়েছে যে, বাস যাত্রীদের এক রাস্তা পার হয়ে মাঝখানের রাস্তায় গিয়ে বাসে উঠার ব্যবস্হা করা হয়েছে। এমন তুঘলকি ডিজাইনের বিআরটি প্রকল্পটি আগের সরকার পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গেছে। এই বিআরটি সড়কে টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে টঙ্গী বাজার হয়ে কোনো গাড়ি-ঘোড়া উত্তরা আবদুল্লাহপুর যেতে পারেনা। একই অবস্থা গাজীপুর মুখীতেও। মানুষের যাতায়াতের জন্য টঙ্গী তুরাগ নদী পারাপারে ব্যবস্হা না রাখায় তুরাগ নদীর উপর বেইলী ব্রীজ নির্মাণ করে মানুষ পারাপারের ব্যবস্হা থাকায় বেইলি ব্রীজের কারনে তুরাগ নদীতে বড় বড় নৌকা ট্রলার চলাচল ১২ বছর ধরে বন্ধ। এমনসব ভুলেভরা বাস্তবতায় বিআরটি প্রকল্পটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি’ বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।১৮ অক্টোবর রবিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির সই করা চিঠিতে পরবর্তী করণীয় জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটি করিডোরের স্টেশন, লেন বিভাজকসহ অন্যান্য অবকাঠামো অপসারণ করে সড়কটিকে উভয় দিকে তিন লেন করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি দুটি দুই লেনের ওভারপাসকে চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে।দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণ চললেও যাত্রী পরিবহনে বিআরটি সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।

আরও  পড়ুন,কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

 এখন সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনি জটিলতা নিরসন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এসব অবকাঠামো অপসারণ করে সড়কটিকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চারটি বিকল্প বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো— প্রকল্পের কাজ শেষ করা, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস রুট চালু করা, সড়কটিকে এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করা এবং বিআরটির অবকাঠামো অপসারণ করে সাধারণ মহাসড়ক করা। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ বিকল্পটি বেছে নিয়েছে সরকার।তবে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসন করতে হবে। এ প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পের সমাপ্তি ঘোষণা (প্রজেক্ট ক্লোজার) করার কথা বলা হয়েছে।মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ ছাড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ১৪ বছরেও চালু হয়নি বাসসেবাঃ১২ বছর নির্মাণ সময়সীমা নির্ধারণ করে ২০১২ সালে শুরু হওয়া গাজীপুর-ঢাকা বিমানবন্দর বিআরটি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও চালু হয়নি বিআরটি বাসসেবা। ওই সময় প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজের ৯৭ শতাংশ শেষ হয়েছিল। এতে ব্যয় হয় ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরপর আর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ব্যস্ত এই অংশে বিআরটির জন্য নির্মিত নির্দিষ্ট লেন বর্তমানে সব ধরনের যানবাহনের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুতগতির বিশেষ বাসসেবা চালু, যা বাস্তবায়িত হয়নি।৷৷৷ এ রুটে চলাচলের জন্য দুই দফা বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণ চললেও যাত্রী পরিবহনে বিআরটি সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। এখন সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনি জটিলতা নিরসন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এসব অবকাঠামো অপসারণ করে সড়কটিকে সাধারণ ৬লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে। বিগত ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস সরকারের আমলে ভুলেভরা বিআরটি সড়ক প্রকল্পটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ভুলেভরা বিআরটি সড়ক প্রকল্পটি ভেঙে ফেলার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আলহামদুলিল্লাহ বলে শুকরিয়া আদায় করছেন, আবার অনেকে মিশ্র প্রতিক্রি ব্যক্ত করেছেন। বিআরটির ভুক্তভোগীদের বক্তব্য হচ্ছে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছেন বিএনপি তারেক রহমানের সরকার।। বিআরটির দুর্ভোগ বিবেচনায় অনেকে বলছেন, এটি বিএনপি সরকারের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। নাজমা বেগম নামে এক গৃহিণী ফেসবুকে মন্তব্য করে লিখেছেন "আলহামদুলিল্লাহ", দেওড়ার সাবেক টঙ্গী পৌরসভা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হাবিবুর রহমান লিখেছেন, দিন শেষে ঋণের বোঝাঁ সাধারণ জনগনের, ভাংঙ্গবে গড়বে জনগনের টাকা,কিন্তু দায়বদ্ধতা কারও নেই? ফজলুল হক চিশতি লিখেছেন, ভালো কথা, ১৪ বছরে নির্মাণ করেছেন ভাংগে সময় কম নিয়েন"। আমিনুল ইসলাম সামি লিখেছেন, "অনেকে বলছেন ৯৭% কাজ শেষ। এখন এটা ভেঙে   টাকা খরচ করে নতুন রুপ দেওয়া ঠিক হবেনা। আসলে এইটার ডিজাইন টা ই ভুল ছিলো, এটা যদিও চালু হইতো তবুও এর সুফল গাজীপুর বাসী পেতো না। শুধু প্রতিদিন নানান নকশা জটিলতায় এক্সিডেন্ট ও রাস্তা-পারাপারে অসংখ্য লাশ উপহার দিতো" আবদুল্লা আল হাতেম শুকরিয়া জানান দিয়ে লিখেছেন "আলহামদুলিল্লাহ"।বিআরটি ভেঙে ফেলার খবরে আকবর হোসেন লিখেছেন, "Good news".শওকত সিকদার লিখেছেন, "সুন্দর একটা পদক্ষেপ"। নূরুল ইসলাম নোভেল লিখেছেন, "আপনার লেখালেখির ফলাফল এটা"। জাহিরুল ইসলাম লিখেছেন, "সফিউদ্দিনের সামনে থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত উড়াল সড়ক থাকবে না ভেঙে ফেলা হবে"। মিজান আজাদ সরকার বিআরটি ভেঙে ফেলার খবরে শুকরিয়া আদায় করে বলেছেন, "আলহামদুলিল্লাহ"। জিনাত হোসেন মন্তব্য করছেন, বিআরটিএ প্রকল্প বাদ দিয়ে এক্সপ্রেস অয়ে করা হোক"। জিনাত হোসেন লিখেছেন, "বিআরটির এ প্রকল্প বাদ দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে করা হোক"। কায়েস হোসেন মন্তব্য করছেন, "এর সহজ সমাধান আছে। বি আর টির মাঝের লেন বাদ দিয়ে ৪ লেনের রাস্তার মত করে ইম্প্রোভাইজ করা সম্ভব। আর এর আসল ডিজাইনারকে ধরে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। এর ভুল ডিজাইনের জন্য কত মানুষের প্রান গেলো"। শামীম ইশতিয়াকের মন্তব্য, "বড় ভাই উত্তরা BNS সেন্টারের সামনে থেকে টঙ্গী কলেজ গেইট পর্যন্ত ব্রীজসহ যেন ভাঙ্গা হয়। তারপর নতুন করে ৬ লেনের নতুন রাস্তা করার পক্ষে আমি"।শত হাজার মানুষের প্রশ্ন যাদের কারনে এই ভুল ডিজাইনের বিআরটি নির্মিত হয়েছে তাদের কি শাস্তির আনা হবেনা? বিআরটি নির্মাণে ১২ বছরের দুর্ভোগ শেষে আবার বিআরটি সড়ক ভেঙে ৬লেনের সাধারণ মহাসড়ক নির্মাণ করতে আবার কত বছর টঙ্গী গাজীপুরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় একমাত্র আল্লাহই জানেন। তারপরও আল্লাহ ভরসা আলহামদুলিল্লাহ, দুর্ভোগ দূর হউক!জনগনের টাকায় হরিলুট আর অপরিকল্পিত নির্মাণ। এই ক্ষতি পূরুঁণ কে দিবে?



দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জনগনের টাকায় হরিলুট আর অপরিকল্পিত নির্মাণ। এই ক্ষতি পূরুঁণ কে দিবে?
0:00 0:00
1.0x