সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কে শুনবে আর্তনাত। প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৭০০ ও ৮০০ টাকা বর্তমানে বিক্রি করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচেই উঠছেনা কৃষকের। নিত্যপণ্য চড়াদামে কিনতে হয়,সস্তাদামে ধান বিক্রি করতে হয়। এনিয়ে কৃষকের চাঁপা কান্নায় জনজীবনে দিনদিন বাড়ছে উদ্বেগ। বোরোধান উৎপাদন খরচ মিলিয়ে কৃষকের লোকসানের পাল্লা অনেক ভারী হচ্ছে,বাড়ছে ঋণের বোঝা। কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে ভারী ঋণের বুঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা নিম্নবর্গের কৃষক। সরকার কতৃক ধানের মূল্য প্রতি ১ মন ১৪৪০ টাকা বেধে দিলেও, স্থানীয় বাজারে ধানের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। খোলা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি ১ মন ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। কৃষক ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায়, বিপাকে পড়েছেন অধিকাংশ কৃষক। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর কৃষকেরা। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে হতাশায় ভুগছেন বর্গা চাষী এবং একসনা কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এরিমধ্য অনেক কৃষক লোকসান গুণতে গিয়ে দরিদ্র হয়ে পথে বসার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। কৃষকরা লাভের আশায় সারাবছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করলেও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রাপ্তি মূল্য থেকে। একদিকে বৃষ্টির কবলে ফসল হানী, অন্যদিকে চলতি মৌসুমের সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি। যার দরুন ধান উৎপাদন করতে খরচও অনেক বেশি হয়েছে। এরমাঝে আড়তদার বিকাশ তালুকদার বলেন, দুর্যোগে বৃষ্টির পানি কবলিত নিম্নমানের ধান বেপারীরা খরিদ করেন না,
আরও পড়ুন, কাশিমপুরে মাদক, জুয়া ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা
বর্তমান বাজারে চালের দাম কম থাকায়,মিলাররা ধান খরিদ করেনা, যার কারণে ধানের চাহিদার উপর প্রভাব পড়েছে। সবমিলিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকের। দুর্যোগ কবলিত নিম্নমানের কালারের ধান অপারগ হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে সস্তা দামে। ধান উৎপাদন করতে, চাষাবাদ ও বিভিন্ন উপকরণ খরচ মিলিয়ে হিসাব করলে ৭৫ ভাগ লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাছাড়াও মৌসুমের আগাম অতি ভারী বৃষ্টিপাতে হাওরে জলাবদ্ধতার পানিতে তলিয়ে, কাঁচা ও আধা পাকা ধান বিনষ্ট হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে কালো রঙের ধান এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। না পারছে বিক্রি করতে, না পারছে গুলায় রাখতে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আর্থিক সক্ষমতা অনেকেরেই না থাকায়। কৃষিঋণ পরিশোধ ও পারিবারিক খরচের প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। তারা আরও জানায় যে, চৈত্র ও বৈশাখে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরের প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া যেগুলো জমি জলাবদ্ধতায় কবলিত হয়েছিল, সেগুলো ধান সংগ্রহ করতে আর্তিক ক্ষতিগ্রস্ত সহ চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩১৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১১০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো ২০৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ বাকি রয়েছে। কিন্তু সরকারি ধান সংগ্রহ বন্ধ থাকায় তাঁরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। স্থানীয় আড়তগুলোতেও কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুনে পথে বসতে হবে তাঁদের। স্থানীয় কৃষকরা দাবি তুলেছেন যে, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সরকারি সংগ্রহ শুরু হলে বাজারে ধানের দাম স্থিতিশীল হবে এবং কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কে শুনবে আর্তনাত। প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৭০০ ও ৮০০ টাকা বর্তমানে বিক্রি করতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচেই উঠছেনা কৃষকের। নিত্যপণ্য চড়াদামে কিনতে হয়,সস্তাদামে ধান বিক্রি করতে হয়। এনিয়ে কৃষকের চাঁপা কান্নায় জনজীবনে দিনদিন বাড়ছে উদ্বেগ। বোরোধান উৎপাদন খরচ মিলিয়ে কৃষকের লোকসানের পাল্লা অনেক ভারী হচ্ছে,বাড়ছে ঋণের বোঝা। কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে ভারী ঋণের বুঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা নিম্নবর্গের কৃষক। সরকার কতৃক ধানের মূল্য প্রতি ১ মন ১৪৪০ টাকা বেধে দিলেও, স্থানীয় বাজারে ধানের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। খোলা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রতি ১ মন ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। কৃষক ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায়, বিপাকে পড়েছেন অধিকাংশ কৃষক। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর কৃষকেরা। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে হতাশায় ভুগছেন বর্গা চাষী এবং একসনা কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এরিমধ্য অনেক কৃষক লোকসান গুণতে গিয়ে দরিদ্র হয়ে পথে বসার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। কৃষকরা লাভের আশায় সারাবছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করলেও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রাপ্তি মূল্য থেকে। একদিকে বৃষ্টির কবলে ফসল হানী, অন্যদিকে চলতি মৌসুমের সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি। যার দরুন ধান উৎপাদন করতে খরচও অনেক বেশি হয়েছে। এরমাঝে আড়তদার বিকাশ তালুকদার বলেন, দুর্যোগে বৃষ্টির পানি কবলিত নিম্নমানের ধান বেপারীরা খরিদ করেন না,
আরও পড়ুন, কাশিমপুরে মাদক, জুয়া ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা
বর্তমান বাজারে চালের দাম কম থাকায়,মিলাররা ধান খরিদ করেনা, যার কারণে ধানের চাহিদার উপর প্রভাব পড়েছে। সবমিলিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকের। দুর্যোগ কবলিত নিম্নমানের কালারের ধান অপারগ হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে সস্তা দামে। ধান উৎপাদন করতে, চাষাবাদ ও বিভিন্ন উপকরণ খরচ মিলিয়ে হিসাব করলে ৭৫ ভাগ লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাছাড়াও মৌসুমের আগাম অতি ভারী বৃষ্টিপাতে হাওরে জলাবদ্ধতার পানিতে তলিয়ে, কাঁচা ও আধা পাকা ধান বিনষ্ট হয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে কালো রঙের ধান এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। না পারছে বিক্রি করতে, না পারছে গুলায় রাখতে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আর্থিক সক্ষমতা অনেকেরেই না থাকায়। কৃষিঋণ পরিশোধ ও পারিবারিক খরচের প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। তারা আরও জানায় যে, চৈত্র ও বৈশাখে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরের প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি পানিতে তলিয়ে যায়। তাছাড়া যেগুলো জমি জলাবদ্ধতায় কবলিত হয়েছিল, সেগুলো ধান সংগ্রহ করতে আর্তিক ক্ষতিগ্রস্ত সহ চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩১৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১১০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো ২০৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ বাকি রয়েছে। কিন্তু সরকারি ধান সংগ্রহ বন্ধ থাকায় তাঁরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। স্থানীয় আড়তগুলোতেও কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুনে পথে বসতে হবে তাঁদের। স্থানীয় কৃষকরা দাবি তুলেছেন যে, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সরকারি সংগ্রহ শুরু হলে বাজারে ধানের দাম স্থিতিশীল হবে এবং কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন