চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত একটি সন্দেহজনক পণ্য চালান কায়িক পরীক্ষায় শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চালানটিতে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের ব্যাপক অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় এতে তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং ঘোষণাবহির্ভূত স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে।সিআইআইডি সূত্র জানায়, অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি আনার অভিযোগে বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে চালানের আমদানিকারক হিসেবে উল্লেখ করা অথৈ এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে অবগত নয় এবং চালানটির সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। তিনি প্রকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।কাস্টমস নথি অনুযায়ী, Manifest No. 4524/2026 এবং Voyage No. 011-এর আওতায় MV UDDIPON EXPRESS জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি গত ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই Master B/L 301174347-এর অধীনে দুটি House B/L-এর মাধ্যমে পণ্য আমদানির তথ্য পাওয়া যায়।প্রথম House B/L ISLCCU2627CGP095-এ পণ্যের বিবরণ হিসেবে উল্লেখ ছিল “PAN MASALA AND ZARDA (CHEWING TOBACCO PRODUCT)”। নথিতে ৪৭৩টি প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্য দেখানো হয়। তবে কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০টি প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন, চট্টগ্রামের ১৭ উপজেলায় বিশেষ অভিযান, আটক ৪৪৫
পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল Dark Brown রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, Brown রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, Grey রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি, White রঙের ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি সামগ্রী।এছাড়া চালানের মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ পাওয়া গেছে, যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো মনে হলেও এগুলোতে কোনো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট নমুনা রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই এসব পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।অন্যদিকে দ্বিতীয় House B/L ISLCCU2627CGP096-এ পণ্যের ঘোষণা ছিল “PRINTED PAPER CATALOGUE”। নথিতে ১ হাজার ৫৭০টি প্যাকেজে ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি পণ্য উল্লেখ করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।ফলে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন, প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে এ বিষয়টিও বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।দুটি House B/L মিলিয়ে কায়িক পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪০টি প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি (প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন) পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ ও সন্দেহজনক পাউডারজাত সামগ্রী এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন ঘোষণাবহির্ভূত স্ক্র্যাপ পেপার।কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্য ঘোষণায় অসঙ্গতির কারণ এবং অন্যের প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিষয় : মাদকসদৃশ কাস্টমস গোয়েন্দা অসামঞ্জস্য

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত একটি সন্দেহজনক পণ্য চালান কায়িক পরীক্ষায় শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চালানটিতে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের ব্যাপক অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় এতে তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং ঘোষণাবহির্ভূত স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে।সিআইআইডি সূত্র জানায়, অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি আনার অভিযোগে বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে চালানের আমদানিকারক হিসেবে উল্লেখ করা অথৈ এন্টারপ্রাইজ-এর স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে অবগত নয় এবং চালানটির সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। তিনি প্রকৃত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।কাস্টমস নথি অনুযায়ী, Manifest No. 4524/2026 এবং Voyage No. 011-এর আওতায় MV UDDIPON EXPRESS জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি গত ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই Master B/L 301174347-এর অধীনে দুটি House B/L-এর মাধ্যমে পণ্য আমদানির তথ্য পাওয়া যায়।প্রথম House B/L ISLCCU2627CGP095-এ পণ্যের বিবরণ হিসেবে উল্লেখ ছিল “PAN MASALA AND ZARDA (CHEWING TOBACCO PRODUCT)”। নথিতে ৪৭৩টি প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্য দেখানো হয়। তবে কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০টি প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন, চট্টগ্রামের ১৭ উপজেলায় বিশেষ অভিযান, আটক ৪৪৫
পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল Dark Brown রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, Brown রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, Grey রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি, White রঙের ৫ প্যাকেজে ১২৫ কেজি সামগ্রী।এছাড়া চালানের মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ পাওয়া গেছে, যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো মনে হলেও এগুলোতে কোনো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট নমুনা রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই এসব পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।অন্যদিকে দ্বিতীয় House B/L ISLCCU2627CGP096-এ পণ্যের ঘোষণা ছিল “PRINTED PAPER CATALOGUE”। নথিতে ১ হাজার ৫৭০টি প্যাকেজে ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি পণ্য উল্লেখ করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।ফলে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন, প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে এ বিষয়টিও বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।দুটি House B/L মিলিয়ে কায়িক পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪০টি প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি (প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন) পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ ও সন্দেহজনক পাউডারজাত সামগ্রী এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন ঘোষণাবহির্ভূত স্ক্র্যাপ পেপার।কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্য ঘোষণায় অসঙ্গতির কারণ এবং অন্যের প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন