চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, মাদক, সাইবার অপরাধ কিংবা পারিবারিক নৃশংসতা—বাড়ছে একের পর এক অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চললেও থামছে না অপরাধের ঊর্ধ্বগতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সামাজিক বৈষম্য—এই পাঁচ কারণেই ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।পাড়া-মহল্লা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক যেন ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে পারিবারিক নৃশংসতা—বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ১ হাজার ৭৭৮টি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৫টি। অর্থাৎ এক বছরে প্রথম ছয় মাসেই হত্যাকাণ্ডের মামলা বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ৪১১টি মামলা হয়েছে ঢাকা বিভাগে।নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এ ধরনের ঘটনায় ২ হাজার ১১টি মামলা হয়েছে। মার্চে যা ছিল ১ হাজার ৪৮৫টি। এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ।২০২৫ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যানেও চুরি ১২ শতাংশ, ছিনতাই ৩৭ শতাংশ এবং অপহরণের ঘটনা ৭১ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন, দেশের গলফের বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ: সেনাপ্রধান
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক চাপ। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট ও বেকারত্ব অনেক তরুণকে দ্রুত অর্থ আয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে।মাদকের বিস্তারও বাড়াচ্ছে অপরাধ। আইস, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত তরুণদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতায়। একই সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার ও সস্তা হিরোইজমের প্রবণতায় গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং।বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, সহিংস কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবও নতুন ধরনের অপরাধ বাড়াচ্ছে।আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা নামবিওর ২০২৬ সালের ক্রাইম ইনডেক্স অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানের পর অপরাধ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশের স্কোর ৬১ দশমিক ৬।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দিয়ে অপরাধের এই প্রবণতা থামানো সম্ভব নয়। দ্রুত বিচার, কার্যকর তদন্ত, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের সুস্থ বিনোদন এবং সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন জোরদার—সবকিছুকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়েই নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উদ্যোগ।
বিষয় : নিরাপত্তাহীনতা ঊর্ধ্বগতি সাইবার অপরাধ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, মাদক, সাইবার অপরাধ কিংবা পারিবারিক নৃশংসতা—বাড়ছে একের পর এক অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চললেও থামছে না অপরাধের ঊর্ধ্বগতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সামাজিক বৈষম্য—এই পাঁচ কারণেই ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।পাড়া-মহল্লা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক যেন ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে পারিবারিক নৃশংসতা—বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ১ হাজার ৭৭৮টি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৫টি। অর্থাৎ এক বছরে প্রথম ছয় মাসেই হত্যাকাণ্ডের মামলা বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ৪১১টি মামলা হয়েছে ঢাকা বিভাগে।নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এ ধরনের ঘটনায় ২ হাজার ১১টি মামলা হয়েছে। মার্চে যা ছিল ১ হাজার ৪৮৫টি। এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ।২০২৫ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যানেও চুরি ১২ শতাংশ, ছিনতাই ৩৭ শতাংশ এবং অপহরণের ঘটনা ৭১ শতাংশ বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন, দেশের গলফের বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ: সেনাপ্রধান
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক চাপ। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট ও বেকারত্ব অনেক তরুণকে দ্রুত অর্থ আয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে।মাদকের বিস্তারও বাড়াচ্ছে অপরাধ। আইস, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত তরুণদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতায়। একই সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার ও সস্তা হিরোইজমের প্রবণতায় গড়ে উঠছে কিশোর গ্যাং।বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, সহিংস কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবও নতুন ধরনের অপরাধ বাড়াচ্ছে।আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা নামবিওর ২০২৬ সালের ক্রাইম ইনডেক্স অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানের পর অপরাধ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশের স্কোর ৬১ দশমিক ৬।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দিয়ে অপরাধের এই প্রবণতা থামানো সম্ভব নয়। দ্রুত বিচার, কার্যকর তদন্ত, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের সুস্থ বিনোদন এবং সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন জোরদার—সবকিছুকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়েই নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উদ্যোগ।

আপনার মতামত লিখুন