দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মুরগি-মাছের বাজারে নেই স্বস্তি, ডিম-ডালেই ভরসা মধ্যবিত্তের

মুরগি-মাছের বাজারে নেই স্বস্তি, ডিম-ডালেই ভরসা মধ্যবিত্তের
মুরগি-মাছের বাজারে নেই স্বস্তি,

সন্ধ্যা সাতটা। অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ঢুকলেন শিফাত আহমেদ। পকেটে ৫০০ টাকা। এই টাকায় পরিবারের জন্য কী কী বাজার করবেন—মাথায় তখন সেই হিসাব।প্রথমে মুরগির দোকান। এক কেজি ব্রয়লার ২০০ টাকা। দাম শুনেই সরে গেলেন। এরপর মাছের বাজারে গিয়ে তেলাপিয়ার দাম শুনলেন ২৫০ টাকা কেজি। মাছও বাদ।সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার আশপাশে। শেষ পর্যন্ত আলু, পেঁয়াজ ও অল্প কিছু সবজি কিনলেন। চারটি ডিমে গেল আরও ৫৬ টাকা। এরপর প্রয়োজন ছিল ভোজ্যতেল। আধা লিটারের বোতল না পেয়ে ২০৪ টাকা দিয়ে কিনতে হলো এক কেজির বোতল।এভাবেই ৫০০ টাকার বাজারে শিফাতের পরিবারের খাবারের তালিকা হয়ে গেল আরও ছোট।ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিফাতের মাসিক আয় ২৮ হাজার টাকা। স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তান নিয়ে মোহাম্মদপুরে থাকেন। বাসা ভাড়া ১৪ হাজার, বিদ্যুৎ, যাতায়াত ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিলিয়ে মাসের শুরুতেই বড় একটি অংশ চলে যায়।আগে বাজারের জন্য ৬ হাজার টাকা রাখলেও এখন ৮ থেকে ৯ হাজার টাকাতেও তা সামলানো কঠিন। গ্যাসের সংকটে ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করায় বেড়েছে বিদ্যুৎ বিলও। গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

আরও  পড়ুন, ডিম-মাছ-মুরগির চড়া দামে চাপে ক্রেতা, কমেছে সবজির দাম

সব মিলিয়ে মাসিক ন্যূনতম খরচ ৩১ হাজার টাকার ওপরে। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।এই ঘাটতি মেটাতে কখনো ধার, কখনো পরিবারের সহায়তা নিতে হচ্ছে। সন্তানের পছন্দের মাছ কিনে দিতে না পারা, বাইরে খাওয়া ও ঘোরাঘুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অসুস্থ হলে চিকিৎসার টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা—সবকিছু মিলিয়ে সংকুচিত হচ্ছে জীবনযাত্রা।এদিকে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও মানুষের স্বস্তি ফেরেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মূল্যস্ফীতি কমলেই হবে না; মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। এজন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।তবে সেই স্বস্তি আসার আগ পর্যন্ত শিফাতদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারকে প্রতিদিনই করতে হচ্ছে নতুন হিসাব।৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে ঢুকে মুরগি-মাছ বাদ দেওয়া এখন শুধু একজন শিফাতের গল্প নয়—এটি শহরের বহু মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসা জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি।

বিষয় : মুরগি-মাছ নেই স্বস্তি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মুরগি-মাছের বাজারে নেই স্বস্তি, ডিম-ডালেই ভরসা মধ্যবিত্তের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সন্ধ্যা সাতটা। অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ঢুকলেন শিফাত আহমেদ। পকেটে ৫০০ টাকা। এই টাকায় পরিবারের জন্য কী কী বাজার করবেন—মাথায় তখন সেই হিসাব।প্রথমে মুরগির দোকান। এক কেজি ব্রয়লার ২০০ টাকা। দাম শুনেই সরে গেলেন। এরপর মাছের বাজারে গিয়ে তেলাপিয়ার দাম শুনলেন ২৫০ টাকা কেজি। মাছও বাদ।সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার আশপাশে। শেষ পর্যন্ত আলু, পেঁয়াজ ও অল্প কিছু সবজি কিনলেন। চারটি ডিমে গেল আরও ৫৬ টাকা। এরপর প্রয়োজন ছিল ভোজ্যতেল। আধা লিটারের বোতল না পেয়ে ২০৪ টাকা দিয়ে কিনতে হলো এক কেজির বোতল।এভাবেই ৫০০ টাকার বাজারে শিফাতের পরিবারের খাবারের তালিকা হয়ে গেল আরও ছোট।ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিফাতের মাসিক আয় ২৮ হাজার টাকা। স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তান নিয়ে মোহাম্মদপুরে থাকেন। বাসা ভাড়া ১৪ হাজার, বিদ্যুৎ, যাতায়াত ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিলিয়ে মাসের শুরুতেই বড় একটি অংশ চলে যায়।আগে বাজারের জন্য ৬ হাজার টাকা রাখলেও এখন ৮ থেকে ৯ হাজার টাকাতেও তা সামলানো কঠিন। গ্যাসের সংকটে ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করায় বেড়েছে বিদ্যুৎ বিলও। গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

আরও  পড়ুন, ডিম-মাছ-মুরগির চড়া দামে চাপে ক্রেতা, কমেছে সবজির দাম

সব মিলিয়ে মাসিক ন্যূনতম খরচ ৩১ হাজার টাকার ওপরে। অর্থাৎ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা।এই ঘাটতি মেটাতে কখনো ধার, কখনো পরিবারের সহায়তা নিতে হচ্ছে। সন্তানের পছন্দের মাছ কিনে দিতে না পারা, বাইরে খাওয়া ও ঘোরাঘুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অসুস্থ হলে চিকিৎসার টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা—সবকিছু মিলিয়ে সংকুচিত হচ্ছে জীবনযাত্রা।এদিকে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও মানুষের স্বস্তি ফেরেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মূল্যস্ফীতি কমলেই হবে না; মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। এজন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।তবে সেই স্বস্তি আসার আগ পর্যন্ত শিফাতদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারকে প্রতিদিনই করতে হচ্ছে নতুন হিসাব।৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে ঢুকে মুরগি-মাছ বাদ দেওয়া এখন শুধু একজন শিফাতের গল্প নয়—এটি শহরের বহু মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসা জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত