জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে দিন-রাত মাছ ধরেন জেলেরা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, উত্তাল ঢেউ আর জলদস্যুর আতঙ্ক পেরিয়ে শত শত, কখনও হাজার হাজার ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরেন তারা।কিন্তু সেই ইলিশই যেন তাদের পরিবারের নাগালের বাইরে। ইলিশের অন্যতম বড় বাজার বরগুনার পাথরঘাটায় এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকায়। কখনও দাম উঠছে আরও বেশি।ফলে সাগর থেকে ইলিশ ধরে আনলেও বাজারে মাছ বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ, দাদন, ঋণের কিস্তি ও ট্রলারের ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলেদের।পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের জিনতলা গ্রামের জেলে কালাম সরদারের আক্ষেপ, সাগরে গিয়ে শত শত, হাজার হাজার ইলিশ ধরলেও দাদন, কিস্তি আর ঋণের চিন্তায় সেই মাছ আর পরিবারের জন্য কেনা হয় না। তার ভাষায়—‘আমরা শুধু মাছ ধরি, কিন্তু খেতে পারি না।’শুধু জেলে পরিবার নয়, ইলিশের চড়া দামে মাছটি এখন নাগালের বাইরে কৃষক ও স্বল্প আয়ের মানুষেরও।মধ্যঘুটাবাছা গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক আফেজ উদ্দিন বলেন, ইলিশের ঘাঁটি পাথরঘাটায় থেকেও ইচ্ছা থাকলেও তারা ইলিশ কিনে খেতে পারেন না। তার দাবি, এক কেজি ইলিশ কিনতে আড়াই মণ ধান বিক্রি করতে হয়।
আরও পড়ুন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কঠোর ও মানবিক হওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
অথচ এই একটি ইলিশের পেছনে জেলেদের রয়েছে দীর্ঘ শ্রম আর জীবনের ঝুঁকি। গভীর সমুদ্রে কখনও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, কখনও উত্তাল ঢেউ, আবার কখনও জলদস্যুর হামলার আশঙ্কা নিয়ে থাকতে হয় তাদের।সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে একটি মাছ ধরার ট্রলার উল্টে যায়। অন্য একটি ট্রলারের সহায়তায় আট জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রাণ হারান পাঁচজন।এমন দুর্ঘটনা উপকূলের জেলেদের কাছে নতুন নয়। তাদের অভিযোগ, জীবন বাজি রেখে সাগর থেকে মাছ ধরে আনলেও নিজেদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।আড়তদার ও মহাজনের দাদন, ঋণের কিস্তি, ট্রলারের খরচ আর সংসারের ব্যয় মেটাতে মাছ বিক্রি করে দিতে হয়। ফলে ইলিশের মৌসুম এলেও নিম্ন আয়ের বহু জেলের ঘরে ইলিশের স্বাদ জোটে না।যে মাছ ধরতে গিয়ে জীবন দিতে হয়, সেই মাছই পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার সামর্থ্য নেই—পাথরঘাটার জেলেদের এই আক্ষেপ যেন উপকূলের কঠিন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।
বিষয় : জীবন বাজি । ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ইলিশ ধরেন

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে দিন-রাত মাছ ধরেন জেলেরা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, উত্তাল ঢেউ আর জলদস্যুর আতঙ্ক পেরিয়ে শত শত, কখনও হাজার হাজার ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফেরেন তারা।কিন্তু সেই ইলিশই যেন তাদের পরিবারের নাগালের বাইরে। ইলিশের অন্যতম বড় বাজার বরগুনার পাথরঘাটায় এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকায়। কখনও দাম উঠছে আরও বেশি।ফলে সাগর থেকে ইলিশ ধরে আনলেও বাজারে মাছ বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ, দাদন, ঋণের কিস্তি ও ট্রলারের ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলেদের।পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের জিনতলা গ্রামের জেলে কালাম সরদারের আক্ষেপ, সাগরে গিয়ে শত শত, হাজার হাজার ইলিশ ধরলেও দাদন, কিস্তি আর ঋণের চিন্তায় সেই মাছ আর পরিবারের জন্য কেনা হয় না। তার ভাষায়—‘আমরা শুধু মাছ ধরি, কিন্তু খেতে পারি না।’শুধু জেলে পরিবার নয়, ইলিশের চড়া দামে মাছটি এখন নাগালের বাইরে কৃষক ও স্বল্প আয়ের মানুষেরও।মধ্যঘুটাবাছা গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক আফেজ উদ্দিন বলেন, ইলিশের ঘাঁটি পাথরঘাটায় থেকেও ইচ্ছা থাকলেও তারা ইলিশ কিনে খেতে পারেন না। তার দাবি, এক কেজি ইলিশ কিনতে আড়াই মণ ধান বিক্রি করতে হয়।
আরও পড়ুন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কঠোর ও মানবিক হওয়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
অথচ এই একটি ইলিশের পেছনে জেলেদের রয়েছে দীর্ঘ শ্রম আর জীবনের ঝুঁকি। গভীর সমুদ্রে কখনও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, কখনও উত্তাল ঢেউ, আবার কখনও জলদস্যুর হামলার আশঙ্কা নিয়ে থাকতে হয় তাদের।সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে একটি মাছ ধরার ট্রলার উল্টে যায়। অন্য একটি ট্রলারের সহায়তায় আট জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রাণ হারান পাঁচজন।এমন দুর্ঘটনা উপকূলের জেলেদের কাছে নতুন নয়। তাদের অভিযোগ, জীবন বাজি রেখে সাগর থেকে মাছ ধরে আনলেও নিজেদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।আড়তদার ও মহাজনের দাদন, ঋণের কিস্তি, ট্রলারের খরচ আর সংসারের ব্যয় মেটাতে মাছ বিক্রি করে দিতে হয়। ফলে ইলিশের মৌসুম এলেও নিম্ন আয়ের বহু জেলের ঘরে ইলিশের স্বাদ জোটে না।যে মাছ ধরতে গিয়ে জীবন দিতে হয়, সেই মাছই পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার সামর্থ্য নেই—পাথরঘাটার জেলেদের এই আক্ষেপ যেন উপকূলের কঠিন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

আপনার মতামত লিখুন