দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে ৬৮ কোটি টাকায় ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’ করার প্রস্তাব

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে ৬৮ কোটি টাকায় ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’ করার প্রস্তাব
সাইবার অপরাধ ঠেকাতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’

প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে অপরাধের ধরন। অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, পরিচয় চুরি, ম্যালওয়্যার, অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থপাচার থেকে শুরু করে ডার্ক ওয়েব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতারণা—বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ।অপরাধের আলামতও এখন ছড়িয়ে থাকছে মুঠোফোন, কম্পিউটার, ক্লাউড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব কিংবা ক্রিপ্টো ওয়ালেটে।এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশে ‘ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ফরেনসিক ল্যাবরেটরি’—ডিআইএফএল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।পাঁচ বছরের মধ্যে তিন ধাপে এই ল্যাব গড়ে তুলতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিশেষ সভার পর গঠিত সাত সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে এ প্রস্তাব উঠে এসেছে। এতে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।প্রস্তাবিত ডিআইএফএলে থাকবে সাতটি বিশেষায়িত বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার গোয়েন্দা ও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স, ডিজিটাল তদন্ত ও ফরেনসিক, আর্থিক অপরাধ ও সম্পদ উদ্ধার, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন তদন্ত, এআই ও ডেটা সায়েন্স, ম্যালওয়্যার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবস্থাপনা।

আরও  পড়ুন, ২০২৭ সালের রমজান শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি

ম্যালওয়্যার কীভাবে কাজ করছে, বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে কোনো সাইবার হামলা চলছে কি না এবং ক্ষতিকর কোডের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক আছে কি না—এসবও বিশ্লেষণ করবে বিশেষায়িত বিভাগগুলো।প্রস্তাবনায় আরও রয়েছে ‘ন্যাশনাল ফ্রড ইন্টেলিজেন্স ডেটাবেস’। এর মাধ্যমে পুলিশ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, এনবিআর, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিরাপদে বিনিময়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।প্রথম ধাপে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে এক থেকে দুই বছরে ব্যয় হবে ২০ কোটি টাকা। আর দুই থেকে পাঁচ বছরে তৃতীয় ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা।পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।অর্থাৎ প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাওয়া অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশও এবার তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার পথে এগোচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাইবার অপরাধ ঠেকাতে ৬৮ কোটি টাকায় ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব’ করার প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে অপরাধের ধরন। অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, পরিচয় চুরি, ম্যালওয়্যার, অনলাইন জুয়া, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থপাচার থেকে শুরু করে ডার্ক ওয়েব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রতারণা—বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ।অপরাধের আলামতও এখন ছড়িয়ে থাকছে মুঠোফোন, কম্পিউটার, ক্লাউড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব কিংবা ক্রিপ্টো ওয়ালেটে।এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশে ‘ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ফরেনসিক ল্যাবরেটরি’—ডিআইএফএল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।পাঁচ বছরের মধ্যে তিন ধাপে এই ল্যাব গড়ে তুলতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিশেষ সভার পর গঠিত সাত সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে এ প্রস্তাব উঠে এসেছে। এতে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি ও আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।প্রস্তাবিত ডিআইএফএলে থাকবে সাতটি বিশেষায়িত বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে সাইবার গোয়েন্দা ও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স, ডিজিটাল তদন্ত ও ফরেনসিক, আর্থিক অপরাধ ও সম্পদ উদ্ধার, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন তদন্ত, এআই ও ডেটা সায়েন্স, ম্যালওয়্যার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবস্থাপনা।

আরও  পড়ুন, ২০২৭ সালের রমজান শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি

ম্যালওয়্যার কীভাবে কাজ করছে, বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে কোনো সাইবার হামলা চলছে কি না এবং ক্ষতিকর কোডের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক আছে কি না—এসবও বিশ্লেষণ করবে বিশেষায়িত বিভাগগুলো।প্রস্তাবনায় আরও রয়েছে ‘ন্যাশনাল ফ্রড ইন্টেলিজেন্স ডেটাবেস’। এর মাধ্যমে পুলিশ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, এনবিআর, ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিরাপদে বিনিময়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।প্রথম ধাপে এক বছরের মধ্যে বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে এক থেকে দুই বছরে ব্যয় হবে ২০ কোটি টাকা। আর দুই থেকে পাঁচ বছরে তৃতীয় ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি টাকা।পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।অর্থাৎ প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাওয়া অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশও এবার তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার পথে এগোচ্ছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত