দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বিলের পানিতে বৈঠার ঝড়, সালথায় নৌকা বাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজ

বিলের পানিতে বৈঠার ঝড়, সালথায় নৌকা বাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজ
নৌকা বাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজ

বিলের পানিতে ছুটছে একের পর এক নৌকা। মাঝিদের হাতে দ্রুত উঠানামা করছে বৈঠা। চারদিকে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। কার নৌকা আগে পৌঁছাবে—তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা।দীর্ঘ কয়েক বছর পর এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা গেল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিলে।শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। প্রতিযোগিতা দেখতে বিলের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো নারী-পুরুষ, বয়োবৃদ্ধ ও শিশু। করতালি আর হর্ষধ্বনিতে তারা উৎসাহ দেন প্রতিযোগী নৌকার মাঝিদের।আয়োজকরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। কয়েকটি নৌকা পানিতে নামার পর শুরু হয় তীব্র লড়াই।মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠার ছন্দে মুহূর্তেই নৌকাগুলো ছুটে যায় সামনের দিকে। প্রতিযোগিতার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও বাড়তে থাকে উত্তেজনা।নৌকা বাইচকে ঘিরে বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দোকানিরা সাজিয়ে বসেন নানা পণ্য ও খাবারের পসরা। শিশুদের জন্যও ছিল বিনোদনের ব্যবস্থা।

আরও  পড়ুন, ভোরে সাবস্টেশনে আগুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েক এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

নৌকা বাইচ দেখতে সকাল থেকেই সালথাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং মাগুরা, মুকসুদপুরসহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের সমাগম শুরু হয়। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।তাদের মতে, নৌকা বাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যের অংশ। এমন আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে।সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌকা বাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে খোয়াড় গ্রামের আয়োজনে বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো অটুট।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।

বিষয় : নৌকা বাইচ বিলের পানি টানটান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিলের পানিতে বৈঠার ঝড়, সালথায় নৌকা বাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিলের পানিতে ছুটছে একের পর এক নৌকা। মাঝিদের হাতে দ্রুত উঠানামা করছে বৈঠা। চারদিকে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। কার নৌকা আগে পৌঁছাবে—তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা।দীর্ঘ কয়েক বছর পর এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা গেল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিলে।শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। প্রতিযোগিতা দেখতে বিলের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো নারী-পুরুষ, বয়োবৃদ্ধ ও শিশু। করতালি আর হর্ষধ্বনিতে তারা উৎসাহ দেন প্রতিযোগী নৌকার মাঝিদের।আয়োজকরা জানান, বিকেল ৪টার দিকে খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। কয়েকটি নৌকা পানিতে নামার পর শুরু হয় তীব্র লড়াই।মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠার ছন্দে মুহূর্তেই নৌকাগুলো ছুটে যায় সামনের দিকে। প্রতিযোগিতার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও বাড়তে থাকে উত্তেজনা।নৌকা বাইচকে ঘিরে বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দোকানিরা সাজিয়ে বসেন নানা পণ্য ও খাবারের পসরা। শিশুদের জন্যও ছিল বিনোদনের ব্যবস্থা।

আরও  পড়ুন, ভোরে সাবস্টেশনে আগুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েক এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

নৌকা বাইচ দেখতে সকাল থেকেই সালথাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং মাগুরা, মুকসুদপুরসহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের সমাগম শুরু হয়। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।তাদের মতে, নৌকা বাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যের অংশ। এমন আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে।সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌকা বাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে খোয়াড় গ্রামের আয়োজনে বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো অটুট।প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত