বান্দরবানের লামা উপজেলায় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের গ্রুপিং এখন অনেকটা স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা এই বিভাজনের প্রভাব পড়ছে দলীয় সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ওপরও। কে কোন গ্রুপে—এমন হিসাব-নিকাশের মধ্যেই অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মী যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একাধিক বলয় তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও গ্রুপিংয়ের রাজনীতি পুরোপুরি কাটেনি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, রাজনীতির কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা, আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন—তাদের অনেকেই এখন কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। বিপরীতে সুযোগ বুঝে সক্রিয় হওয়া কিংবা বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা অনেক নতুন মুখ দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে আসছেন। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপিং থাকলে দলে মতের বৈচিত্র্য থাকতে পারে, কিন্তু তা যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তাহলে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে একদিকে যেমন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা হন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছেও রাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন, শিবচরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে কঠোর হুঁশিয়ারি
‘এই গ্রুপে যাব, নাকি ওই গ্রুপে?’লামার সাধারণ মানুষের মধ্যেও গ্রুপিং নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের বিভ্রান্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো বিষয়ে কথা বলতে গেলেও অনেক সময় আগে ভাবতে হয়—‘এই গ্রুপের সঙ্গে কথা বলব, নাকি ওই গ্রুপের?’ ফলে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নিতে চান না। এতে জনস্বার্থের বিষয়গুলোও কখনো কখনো দলীয় বিভাজনের হিসাবের মধ্যে আটকে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলেন, রাজনীতির গ্রুপিংয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই; তারা চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সঠিক নেতৃত্ব ও উন্নয়ন। কিন্তু রাজনৈতিক বলয়ের দ্বন্দ্ব যখন সামাজিক পরিসরেও প্রভাব ফেলে, তখন সাধারণ মানুষকেই নানা ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।দল শক্তিশালী করতে ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবিসচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ব্যক্তি বা গ্রুপের পরিবর্তে সংগঠন ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নতুনদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও রাজনৈতিক আদর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।তাদের ভাষ্য, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাও থাকবে—কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন বিভাজনে পরিণত না হয়। লামার রাজনীতিতে প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা মর্যাদা পাবেন, নতুনরা যোগ্যতার ভিত্তিতে উঠে আসবেন এবং সাধারণ মানুষ কোনো গ্রুপের নয়—নিজেদের স্বার্থের রাজনীতির অংশীদার হবেন।দুই দশকের গ্রুপিংয়ের রাজনীতি কি এবার বদলাবে? নাকি ‘এই গ্রুপ না ওই গ্রুপ’—এই প্রশ্নেই আটকে থাকবে লামার রাজনীতি? উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
বান্দরবানের লামা উপজেলায় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের গ্রুপিং এখন অনেকটা স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। প্রায় দুই দশক ধরে চলে আসা এই বিভাজনের প্রভাব পড়ছে দলীয় সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ওপরও। কে কোন গ্রুপে—এমন হিসাব-নিকাশের মধ্যেই অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মী যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একাধিক বলয় তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও গ্রুপিংয়ের রাজনীতি পুরোপুরি কাটেনি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা আরও দৃশ্যমান হয়েছে।ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, রাজনীতির কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা, আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন—তাদের অনেকেই এখন কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। বিপরীতে সুযোগ বুঝে সক্রিয় হওয়া কিংবা বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা অনেক নতুন মুখ দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে আসছেন। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপিং থাকলে দলে মতের বৈচিত্র্য থাকতে পারে, কিন্তু তা যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তাহলে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে একদিকে যেমন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা হন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছেও রাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন, শিবচরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে কঠোর হুঁশিয়ারি
‘এই গ্রুপে যাব, নাকি ওই গ্রুপে?’লামার সাধারণ মানুষের মধ্যেও গ্রুপিং নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের বিভ্রান্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো বিষয়ে কথা বলতে গেলেও অনেক সময় আগে ভাবতে হয়—‘এই গ্রুপের সঙ্গে কথা বলব, নাকি ওই গ্রুপের?’ ফলে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নিতে চান না। এতে জনস্বার্থের বিষয়গুলোও কখনো কখনো দলীয় বিভাজনের হিসাবের মধ্যে আটকে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলেন, রাজনীতির গ্রুপিংয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই; তারা চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, সঠিক নেতৃত্ব ও উন্নয়ন। কিন্তু রাজনৈতিক বলয়ের দ্বন্দ্ব যখন সামাজিক পরিসরেও প্রভাব ফেলে, তখন সাধারণ মানুষকেই নানা ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।দল শক্তিশালী করতে ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবিসচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের বিভাজন থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ব্যক্তি বা গ্রুপের পরিবর্তে সংগঠন ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দলের দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নতুনদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও রাজনৈতিক আদর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।তাদের ভাষ্য, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষাও থাকবে—কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন বিভাজনে পরিণত না হয়। লামার রাজনীতিতে প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা মর্যাদা পাবেন, নতুনরা যোগ্যতার ভিত্তিতে উঠে আসবেন এবং সাধারণ মানুষ কোনো গ্রুপের নয়—নিজেদের স্বার্থের রাজনীতির অংশীদার হবেন।দুই দশকের গ্রুপিংয়ের রাজনীতি কি এবার বদলাবে? নাকি ‘এই গ্রুপ না ওই গ্রুপ’—এই প্রশ্নেই আটকে থাকবে লামার রাজনীতি? উত্তর খুঁজছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও।

আপনার মতামত লিখুন