চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে গাঁজাসহ দুজন, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার তদন্তে শনাক্ত একজন, মাদক মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে সিএমপি অধ্যাদেশে আটক ১২ জন রয়েছেন।শনিবার, ১ আগস্ট কোতোয়ালী থানা এলাকার বিভিন্ন ক্রাইম স্পটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে এক কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।কোতোয়ালী থানা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই আব্দুল আউয়াল, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই অনুপ কুমার ধর, এসআই নাঈমুর রহমান ও এএসআই সামছুদ্দোহাসহ পুলিশের একাধিক দল এতে অংশ নেয়।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় এক কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. সোহেল (২৮) ও আশরাফুল (২০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেলের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর এলাকায়। তিনি বর্তমানে নগরের গোয়ালপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। আশরাফুল নগরের লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকার বাসিন্দা।এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক), ২৬(১) ও ৪১ ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর-১ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন, খরচও কম, ঝুঁকিও কম লাভে তিন গুণ, ওলকচু চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা
তবে উদ্ধার করা মাদক কার দখলে কীভাবে পাওয়া গেছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।অভিযানে মেহেদী ইসলাম (২২) নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তিনি কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।গত ১৪ জুলাই দায়ের করা ওই মামলাটি কোতোয়ালী থানার এফআইআর নম্বর-২২। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। মেহেদীর স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকায় হলেও তিনি হাটহাজারী ও নগরের কাজীর দেউড়ি-গোয়ালপাড়া এলাকায় অবস্থান করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।একই অভিযানে শাহানুর ওরফে শানু নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কোতোয়ালী থানার একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে জিআর মামলা নম্বর-৪৭/২৪ এবং কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর-৫(২)২৪-এর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। শাহানুর নগরের বটতলী রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।অভিযানের সময় কোতোয়ালী থানার গোয়ালপাড়া ও আশপাশের এলাকায় উদ্দেশ্যহীন ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন, জোড়া বিদেশি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার: চৌকস অভিযানের স্বীকৃতিস্বরূপ সদর থানার ওসি
তাঁরা হলেন মো. পারভেজ (২০), সাজ্জাদ (১৯), সুজয় দে (২৬), অজয় দাস (৪৪), বায়েজিদ হোসেন (২৯), সাজ্জাদ হোসেন (৩১), নুরু হাসান (১৯), পারভেজ (৩৫), শাওন সেন (৩৫), শেখ মো. কুদরতই খুদা ওরফে শিপন, মো. ফয়সাল আলম (৩২) এবং জীবন রহমান জালাল (৩৮)।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়ি নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা, কক্সবাজার, রাজশাহী, ফেনী ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাঁদের অনেকে বর্তমানে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান বা ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।তাঁদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার অধর্তব্য মামলা নম্বর-২২৭/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ৮৮ ও ১০৩ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ১৬ জনকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবারই চট্টগ্রামের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।সিএণপির সূত্র জানিয়েছে, নগরের বাণিজ্যিক এলাকা, আবাসিক অঞ্চল, রেলস্টেশনকেন্দ্রিক এলাকা এবং অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে মাদক, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে গাঁজাসহ দুজন, ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার তদন্তে শনাক্ত একজন, মাদক মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা পরোয়ানাভুক্ত একজন এবং সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে সিএমপি অধ্যাদেশে আটক ১২ জন রয়েছেন।শনিবার, ১ আগস্ট কোতোয়ালী থানা এলাকার বিভিন্ন ক্রাইম স্পটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে এক কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।কোতোয়ালী থানা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই আব্দুল আউয়াল, এসআই মিজানুর রহমান, এসআই অনুপ কুমার ধর, এসআই নাঈমুর রহমান ও এএসআই সামছুদ্দোহাসহ পুলিশের একাধিক দল এতে অংশ নেয়।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় এক কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. সোহেল (২৮) ও আশরাফুল (২০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেলের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর এলাকায়। তিনি বর্তমানে নগরের গোয়ালপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। আশরাফুল নগরের লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকার বাসিন্দা।এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক), ২৬(১) ও ৪১ ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর-১ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন, খরচও কম, ঝুঁকিও কম লাভে তিন গুণ, ওলকচু চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা
তবে উদ্ধার করা মাদক কার দখলে কীভাবে পাওয়া গেছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।অভিযানে মেহেদী ইসলাম (২২) নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তিনি কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।গত ১৪ জুলাই দায়ের করা ওই মামলাটি কোতোয়ালী থানার এফআইআর নম্বর-২২। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। মেহেদীর স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকায় হলেও তিনি হাটহাজারী ও নগরের কাজীর দেউড়ি-গোয়ালপাড়া এলাকায় অবস্থান করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।একই অভিযানে শাহানুর ওরফে শানু নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কোতোয়ালী থানার একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে জিআর মামলা নম্বর-৪৭/২৪ এবং কোতোয়ালী থানার মামলা নম্বর-৫(২)২৪-এর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। শাহানুর নগরের বটতলী রেলস্টেশন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।অভিযানের সময় কোতোয়ালী থানার গোয়ালপাড়া ও আশপাশের এলাকায় উদ্দেশ্যহীন ও সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন, জোড়া বিদেশি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার: চৌকস অভিযানের স্বীকৃতিস্বরূপ সদর থানার ওসি
তাঁরা হলেন মো. পারভেজ (২০), সাজ্জাদ (১৯), সুজয় দে (২৬), অজয় দাস (৪৪), বায়েজিদ হোসেন (২৯), সাজ্জাদ হোসেন (৩১), নুরু হাসান (১৯), পারভেজ (৩৫), শাওন সেন (৩৫), শেখ মো. কুদরতই খুদা ওরফে শিপন, মো. ফয়সাল আলম (৩২) এবং জীবন রহমান জালাল (৩৮)।গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাড়ি নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা, কক্সবাজার, রাজশাহী, ফেনী ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাঁদের অনেকে বর্তমানে নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান বা ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।তাঁদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার অধর্তব্য মামলা নম্বর-২২৭/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ৮৮ ও ১০৩ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ১৬ জনকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবারই চট্টগ্রামের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।সিএণপির সূত্র জানিয়েছে, নগরের বাণিজ্যিক এলাকা, আবাসিক অঞ্চল, রেলস্টেশনকেন্দ্রিক এলাকা এবং অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে মাদক, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন