আজ ২০ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে টানা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।সেদিন বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে ওই সময় পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৪৮ জন বলে উল্লেখ করা হয়, যদিও বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা দাবি করা হয়েছিল।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ২০ জুলাই দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করে। একই সঙ্গে ২১ ও ২২ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৮ জুলাই থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।দিনটিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন, সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার
মিরপুরের কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।সেদিন রাতে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারা সরকারের কাছে আট দফা দাবি উপস্থাপন করেন। বৈঠক শেষে তৎকালীন আইনমন্ত্রী দাবি করেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সমাধানযোগ্য।এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও আটকের ঘটনা ঘটে। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে, অন্যদিকে সরকার অভিযোগ করে যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে।২০ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিষয় : জুলাই আন্দোলন সেনা টহল কারফিউ

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
আজ ২০ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে টানা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।সেদিন বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে ওই সময় পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৪৮ জন বলে উল্লেখ করা হয়, যদিও বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা দাবি করা হয়েছিল।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ২০ জুলাই দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করে। একই সঙ্গে ২১ ও ২২ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৮ জুলাই থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।দিনটিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা, সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন, সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার
মিরপুরের কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।সেদিন রাতে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারা সরকারের কাছে আট দফা দাবি উপস্থাপন করেন। বৈঠক শেষে তৎকালীন আইনমন্ত্রী দাবি করেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সমাধানযোগ্য।এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও আটকের ঘটনা ঘটে। বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে, অন্যদিকে সরকার অভিযোগ করে যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ানো হয়েছে।২০ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন