জ্বালানি সংকটে গত মাসে দেশে বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করে। দিনে-রাতে গড়ে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। অথচ একই সময়ে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে মাত্র ৬৫০ মেগাওয়াট।এর মধ্যেই সামনে এসেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিন হাজার ২৮৭ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার ৩৭টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প বাতিল করা হয়েছিল।জাতীয় অর্থনীতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়মুক্তির বিশেষ আইনের আওতায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল—এমন যুক্তিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৭টি সৌরবিদ্যুৎ, তিনটি বায়ুবিদ্যুৎ এবং একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ছিল।এসব প্রকল্পের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল তিন হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট। অনেক প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণসহ অবকাঠামোগত কাজও এগিয়ে যাচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে পাঁচ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার ৫৫টি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু এতে তেমন সাড়া মেলেনি। মাত্র ১১টি প্রকল্পের জন্য দরপত্র জমা পড়ে, যার সক্ষমতা প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন,আসিফ মাহমুদসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল সরকারের ‘সভরেন গ্যারান্টি’ না থাকা। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রকল্পের নির্ভরযোগ্যতার জন্য এ ধরনের নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।এদিকে বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কিছু কোম্পানি জমি কেনা, কর পরিশোধসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ করেছিল। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছিল।বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও বাতিল হওয়া ৩৭টি নবায়নযোগ্য প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, প্রকল্পগুলোতে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা ছিল।বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, প্রকল্পগুলো বাতিল না হলে এর কয়েকটি এরই মধ্যে উৎপাদনে আসতে পারত। এতে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতো।এখন জ্বালানি সংকট ও বাড়তি লোডশেডিংয়ের মধ্যে বাতিল প্রকল্পগুলোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
বিষয় : মেগাওয়াট জ্বালানি সংকট লোডশেডিং

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি সংকটে গত মাসে দেশে বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করে। দিনে-রাতে গড়ে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। অথচ একই সময়ে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে মাত্র ৬৫০ মেগাওয়াট।এর মধ্যেই সামনে এসেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিন হাজার ২৮৭ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার ৩৭টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প বাতিল করা হয়েছিল।জাতীয় অর্থনীতির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়মুক্তির বিশেষ আইনের আওতায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল—এমন যুক্তিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৭টি সৌরবিদ্যুৎ, তিনটি বায়ুবিদ্যুৎ এবং একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ছিল।এসব প্রকল্পের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল তিন হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট। অনেক প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণসহ অবকাঠামোগত কাজও এগিয়ে যাচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে পাঁচ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার ৫৫টি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু এতে তেমন সাড়া মেলেনি। মাত্র ১১টি প্রকল্পের জন্য দরপত্র জমা পড়ে, যার সক্ষমতা প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন,আসিফ মাহমুদসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল সরকারের ‘সভরেন গ্যারান্টি’ না থাকা। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রকল্পের নির্ভরযোগ্যতার জন্য এ ধরনের নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।এদিকে বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কিছু কোম্পানি জমি কেনা, কর পরিশোধসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ করেছিল। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছিল।বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও বাতিল হওয়া ৩৭টি নবায়নযোগ্য প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, প্রকল্পগুলোতে প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা ছিল।বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, প্রকল্পগুলো বাতিল না হলে এর কয়েকটি এরই মধ্যে উৎপাদনে আসতে পারত। এতে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতো।এখন জ্বালানি সংকট ও বাড়তি লোডশেডিংয়ের মধ্যে বাতিল প্রকল্পগুলোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।

আপনার মতামত লিখুন