দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ঢাকার চারপাশে ৭৫০ অবৈধ ইটভাটা, দূষণের আগুন জ্বলছেই

ঢাকার চারপাশে ৭৫০ অবৈধ ইটভাটা, দূষণের আগুন জ্বলছেই
ঢাকার চারপাশে ৭৫০ অবৈধ ইটভাটা

রাজধানী ঢাকার চারপাশ যেন অবৈধ ইটভাটার এক বিশাল বলয়। কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই ও গাজীপুরে গড়ে উঠেছে অন্তত ৭৫০টি অবৈধ ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স—অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না আইনে নির্ধারিত দূরত্বও।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, খোদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ঘেঁষেই রয়েছে পাঁচটি অবৈধ ইটভাটা। বছরের পর বছর এসব ভাটা চললেও বারবার অভিযান, আদালতের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর চিঠি চালাচালির পরও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ২৪১টি ইটভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র ৯৪টি। অর্থাৎ বাকি ১৪৭টিই অবৈধ। রূপগঞ্জে ৭৪টি ভাটার মধ্যে ৭০টি অবৈধ বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।আর সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে অনুমোদনহীন ইটভাটার সংখ্যা ৩৫৪টি।

আরও পড়ুন.সিএসআর ফান্ডের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এর মধ্যে ধামরাইয়ে ১৬৭, সাভারে ১১৭ এবং আশুলিয়ায় রয়েছে ৭০টি।কেরানীগঞ্জেও চলছে অর্ধশতাধিক অবৈধ ভাটা। অন্যদিকে গাজীপুরে পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া ভাটার সংখ্যা প্রায় ১৩০টি। অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।দেশের চিত্রও উদ্বেগজনক। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, সারা দেশে চালু প্রায় ৭ হাজার ৮৬টি ইটভাটার মধ্যে ৪ হাজার ৫৫০টিরই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করেই বছরের পর বছর চলছে এসব অবৈধ ভাটা। অভিযান চালিয়ে চিমনি ভেঙে দেওয়ার পরও কয়েক দিনের মধ্যে অস্থায়ী চিমনি বানিয়ে ফের উৎপাদন শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।ইট তৈরির মাটি সংগ্রহেও মানা হচ্ছে না নিয়ম। রাতের আঁধারে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ভেকু ও ট্রাকে করে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। নদীতীর থেকেও বোটে করে মাটি আনার অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে, আইন অনুযায়ী স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও সরকারি বনভূমির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের সুযোগ নেই। অথচ বাস্তবে এসব স্থাপনার আশপাশেই রয়েছে অসংখ্য ভাটা।পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার প্রায় ৫৮ শতাংশ বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা দায়ী।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এ সংকটের সমাধান হবে না। পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানো, পুরোনো প্রযুক্তির ভাটা বন্ধ করা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।নইলে ইটের চাহিদা মেটাতে গিয়ে রাজধানীর চারপাশে তৈরি হওয়া এই দূষণের বলয় আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে—ঝুঁকিতে পড়বে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য।

বিষয় : অবৈধ ইটভাটা ঢাকার চারপাশে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকার চারপাশে ৭৫০ অবৈধ ইটভাটা, দূষণের আগুন জ্বলছেই

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকার চারপাশ যেন অবৈধ ইটভাটার এক বিশাল বলয়। কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই ও গাজীপুরে গড়ে উঠেছে অন্তত ৭৫০টি অবৈধ ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই, নেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স—অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না আইনে নির্ধারিত দূরত্বও।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, খোদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ঘেঁষেই রয়েছে পাঁচটি অবৈধ ইটভাটা। বছরের পর বছর এসব ভাটা চললেও বারবার অভিযান, আদালতের নির্দেশ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর চিঠি চালাচালির পরও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ২৪১টি ইটভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র ৯৪টি। অর্থাৎ বাকি ১৪৭টিই অবৈধ। রূপগঞ্জে ৭৪টি ভাটার মধ্যে ৭০টি অবৈধ বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।আর সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে অনুমোদনহীন ইটভাটার সংখ্যা ৩৫৪টি।

আরও পড়ুন.সিএসআর ফান্ডের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এর মধ্যে ধামরাইয়ে ১৬৭, সাভারে ১১৭ এবং আশুলিয়ায় রয়েছে ৭০টি।কেরানীগঞ্জেও চলছে অর্ধশতাধিক অবৈধ ভাটা। অন্যদিকে গাজীপুরে পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়া ভাটার সংখ্যা প্রায় ১৩০টি। অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ভাটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।দেশের চিত্রও উদ্বেগজনক। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, সারা দেশে চালু প্রায় ৭ হাজার ৮৬টি ইটভাটার মধ্যে ৪ হাজার ৫৫০টিরই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করেই বছরের পর বছর চলছে এসব অবৈধ ভাটা। অভিযান চালিয়ে চিমনি ভেঙে দেওয়ার পরও কয়েক দিনের মধ্যে অস্থায়ী চিমনি বানিয়ে ফের উৎপাদন শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।ইট তৈরির মাটি সংগ্রহেও মানা হচ্ছে না নিয়ম। রাতের আঁধারে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ভেকু ও ট্রাকে করে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। নদীতীর থেকেও বোটে করে মাটি আনার অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে, আইন অনুযায়ী স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও সরকারি বনভূমির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের সুযোগ নেই। অথচ বাস্তবে এসব স্থাপনার আশপাশেই রয়েছে অসংখ্য ভাটা।পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকার প্রায় ৫৮ শতাংশ বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটা দায়ী।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এ সংকটের সমাধান হবে না। পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানো, পুরোনো প্রযুক্তির ভাটা বন্ধ করা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।নইলে ইটের চাহিদা মেটাতে গিয়ে রাজধানীর চারপাশে তৈরি হওয়া এই দূষণের বলয় আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে—ঝুঁকিতে পড়বে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্য।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত