দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

  সিরাজগঞ্জ বন্ধ জাতীয় জুটমিল কারখানা দেখভালে মাসে খরচ ৭০ লাখ টাকা

সিরাজগঞ্জ বন্ধ জাতীয় জুটমিল কারখানা দেখভালে মাসে খরচ ৭০ লাখ টাকা

সিরাজগঞ্জের রায়পুর কবরস্থানে মাটি ভরাট কাজের শুভ উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের রায়পুর কবরস্থানে মাটি ভরাট কাজের শুভ উদ্বোধন

সাভারে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও দখল চেষ্টা  মামলার প্রধান আসামি সোহরাব গ্রেপ্তার

সাভারে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও দখল চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি সোহরাব গ্রেপ্তার

বাসন থানার বিশেষ অভিযানে অপহরণ, ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার

বাসন থানার বিশেষ অভিযানে অপহরণ, ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলার ৫ আসামি গ্রেফতার

ধামরাইয়ে মাদক, জুয়া ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ধামরাইয়ে মাদক, জুয়া ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়িতে ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী পরিবারের মাঝে বৃক্ষচারা বিতরণ

খাগড়াছড়িতে ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী পরিবারের মাঝে বৃক্ষচারা বিতরণ

পত্নীতলা থানার মাদক বিরোধী অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য সেবন করায় চারজন আটক

পত্নীতলা থানার মাদক বিরোধী অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য সেবন করায় চারজন আটক

ধামইরহাটে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত

ধামইরহাটে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত

সিরাজগঞ্জ বন্ধ জাতীয় জুটমিল কারখানা দেখভালে মাসে খরচ ৭০ লাখ টাকা

  সিরাজগঞ্জ বন্ধ জাতীয় জুটমিল কারখানা দেখভালে মাসে খরচ ৭০ লাখ টাকা
বন্ধ জাতীয় জুটমিল কারখানা দেখভালে মাসে খরচ ৭০ লাখ টাকা

সিরাজগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা ‘জাতীয় জুট মিল’-এর কোটি কোটি টাকার মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও সম্পদ দেখভালে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। একসময়ের হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যভরা এই রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি লোকসান ও অব্যবস্থাপনায় দফায় দফায় বন্ধ হওয়ায় থমকে গেছে এর ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকদের জীবন। সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মিলটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মহীন শ্রমিকেরা।জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় ১৯৬০ সালে ৭৫ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয় জুট মিলটি। পরবর্তী সময়ে এটি জাতীয়করণ হয়ে ‘জাতীয় জুট মিল’ নামে পরিচিতি পায়। দীর্ঘদিন লাভজনক থাকলেও দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসানে পড়ে ২০০৭ সালে প্রথমবার মিলটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে পুনরায় চালু হলেও ২০২০ সালের ১ জুন আবারও এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।সর্বশেষ ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ মিলটি ভাড়া (লিজ) নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৪ সালে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই পুনরায় মিলটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই চরম সংকটে পড়েন শ্রমিক-কর্মচারীরা।বর্তমানে জুট মিলটির কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে। বর্তমানে জুট মিলটির মরিচা ধরা মেশিন ও কোটি টাকার যন্ত্রাংশ দেখভাল করার জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও তাদের নিয়মিত বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ নানা খরচ মেটাতেই প্রতি মাসে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

আরও পড়ুন, সিরাজগঞ্জের রায়পুর কবরস্থানে মাটি ভরাট কাজের শুভ উদ্বোধন

জুট মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বহু শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। মিলের সাবেক শ্রমিক রতন আলী নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘মিল যখন চালু ছিল তখন প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতাম। কখনো বেশিও হতো। সংসার ভালো চলত। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে ঘটকালি করছি। এখানেও তেমন ইনকাম না থাকায় পাশাপাশি সামান্য জমিতে কৃষিকাজ করে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি।’আরেক শ্রমিক বেলাল হোসেন বলেন, ‘এই জুট মিলই ছিল পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন কাজ করে বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি। মিলটি চালু হলে আমরা যারা পুরাতন শ্রমিক আছি তাদেরকেই যেন কাজে নেওয়া হয়, সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি।’স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয়করণ ও লুটপাটের কারণেই বারবার মিলটি বন্ধের মুখে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবন আর মরিচা ধরা যন্ত্রপাতির পরিবর্তে দ্রুত মিলটি চালুর মাধ্যমে হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাক, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন  বলেন, ‘বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) থেকে সিরাজগঞ্জের জাতীয় এই জুট মিলটি পরিচালনা হয়ে থাকে। বন্ধ থাকা মিলটি চালু করতে বিজেএমসি থেকে লিজের জন্য চেষ্টা চলছে। কেউ লিজ নিলেই আবার পুনরায় মিলটি চালু হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধ থাকা মিলটি দেখভালের জন্য প্রায় ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নিয়মিত সবার বেতনও পরিশোধ করা হচ্ছে। সবার বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি খুব দ্রুত লিজের মাধ্যমে মিলটি চালু করতে পারব।’

বিষয় : আত্মনির্ভরশীল জুটমিল কারখানা যন্ত্রপাতি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


সিরাজগঞ্জ বন্ধ জাতীয় জুটমিল কারখানা দেখভালে মাসে খরচ ৭০ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা ‘জাতীয় জুট মিল’-এর কোটি কোটি টাকার মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও সম্পদ দেখভালে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। একসময়ের হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যভরা এই রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি লোকসান ও অব্যবস্থাপনায় দফায় দফায় বন্ধ হওয়ায় থমকে গেছে এর ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকদের জীবন। সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত মিলটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মহীন শ্রমিকেরা।জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় ১৯৬০ সালে ৭৫ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয় জুট মিলটি। পরবর্তী সময়ে এটি জাতীয়করণ হয়ে ‘জাতীয় জুট মিল’ নামে পরিচিতি পায়। দীর্ঘদিন লাভজনক থাকলেও দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে লোকসানে পড়ে ২০০৭ সালে প্রথমবার মিলটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে পুনরায় চালু হলেও ২০২০ সালের ১ জুন আবারও এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।সর্বশেষ ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ মিলটি ভাড়া (লিজ) নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০২৪ সালে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই পুনরায় মিলটি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই চরম সংকটে পড়েন শ্রমিক-কর্মচারীরা।বর্তমানে জুট মিলটির কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে। বর্তমানে জুট মিলটির মরিচা ধরা মেশিন ও কোটি টাকার যন্ত্রাংশ দেখভাল করার জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও তাদের নিয়মিত বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ নানা খরচ মেটাতেই প্রতি মাসে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

আরও পড়ুন, সিরাজগঞ্জের রায়পুর কবরস্থানে মাটি ভরাট কাজের শুভ উদ্বোধন

জুট মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বহু শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। মিলের সাবেক শ্রমিক রতন আলী নিজের দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘মিল যখন চালু ছিল তখন প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতাম। কখনো বেশিও হতো। সংসার ভালো চলত। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে ঘটকালি করছি। এখানেও তেমন ইনকাম না থাকায় পাশাপাশি সামান্য জমিতে কৃষিকাজ করে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি।’আরেক শ্রমিক বেলাল হোসেন বলেন, ‘এই জুট মিলই ছিল পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। মিলটি বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন কাজ করে বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি। মিলটি চালু হলে আমরা যারা পুরাতন শ্রমিক আছি তাদেরকেই যেন কাজে নেওয়া হয়, সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি।’স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয়করণ ও লুটপাটের কারণেই বারবার মিলটি বন্ধের মুখে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবন আর মরিচা ধরা যন্ত্রপাতির পরিবর্তে দ্রুত মিলটি চালুর মাধ্যমে হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাক, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন  বলেন, ‘বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) থেকে সিরাজগঞ্জের জাতীয় এই জুট মিলটি পরিচালনা হয়ে থাকে। বন্ধ থাকা মিলটি চালু করতে বিজেএমসি থেকে লিজের জন্য চেষ্টা চলছে। কেউ লিজ নিলেই আবার পুনরায় মিলটি চালু হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধ থাকা মিলটি দেখভালের জন্য প্রায় ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নিয়মিত সবার বেতনও পরিশোধ করা হচ্ছে। সবার বেতন ও বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি খুব দ্রুত লিজের মাধ্যমে মিলটি চালু করতে পারব।’


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত