দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

এক মাঠ, একসাথে কোরবানি, সমান বণ্টন সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির বৈইলাজান গ্রামে ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে সংযোজন

এক মাঠ, একসাথে কোরবানি, সমান বণ্টন সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির বৈইলাজান গ্রামে ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে সংযোজন
এক মাঠ, একসাথে কোরবানি, সমান বণ্টন সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির বৈইলাজান গ্রামে ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে সংযোজন

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈইলাজান গ্রামের এই সম্মিলিত কোরবানির আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি গ্রামবাংলার সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। প্রায় দুই শতাব্দী আগে গ্রামের প্রবীণ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের উদ্যোগে এই প্রথার সূচনা হয়। তখন থেকেই গ্রামের মানুষ ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এক মাঠে কোরবানি দিয়ে সমানভাবে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন।

আরও পড়ুন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

সময়ের পরিবর্তনে গ্রামের জনসংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে কোরবানির পশুর সংখ্যাও। কিন্তু বদলায়নি গ্রামের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ। এই আয়োজন শুধু কোরবানির শিক্ষা নয়, বরং সমাজে সমতা, সহমর্মিতা ও একতার বার্তা বহন করে চলছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাইরে থাকা মানুষও নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। ফলে পুরো গ্রামজুড়ে তৈরি হয় মিলনমেলা ও উৎসবের আবহ। আধুনিকতার এই সময়ে দাঁড়িয়ে বৈইলাজানের এই ঐতিহ্য সামাজিক বন্ধন ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।

আরও পড়ুন, ঈদের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা জজের বাসায় চুরি

সমাজসেবক আব্দুল আলিম আব্দুল্লাহ বলেন,বৈইলাজান গ্রামের এই সম্মিলিত কোরবানির আয়োজন আমাদের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার প্রতীক। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে মানুষ এখানে একসাথে কোরবানি দিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। 

জেলা যুবদল নেতা সরকার শহীদ বলেন, বৈইলাজান গ্রামের মানুষ যুগের পর যুগ ধরে যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কোরবানি দিয়ে আসছেন, তা আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করছে। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই একসাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি ইতিবাচক শিক্ষা, যেখানে সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের চর্চা হয়। আমি আশা করি, এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও একইভাবে অটুট থাকবে।

আরও পড়ুন, মানুষ এখন চামড়া ছেড়ে সিনথেটিকের দিকে ঝুঁকছে: কৃষিমন্ত্রী

পুটিজানা ইউনিয়নের প্রশাসক রওশন জাহান বলেন,বৈইলাজান গ্রামের সম্মিলিত কোরবানির এই আয়োজন সত্যিই ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী যে শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই আয়োজন পরিচালনা করছেন, তা সমাজের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ।

বিষয় : ময়মনসিংহ ঈদ বৈইলাজান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এক মাঠ, একসাথে কোরবানি, সমান বণ্টন সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির বৈইলাজান গ্রামে ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে সংযোজন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈইলাজান গ্রামের এই সম্মিলিত কোরবানির আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি গ্রামবাংলার সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। প্রায় দুই শতাব্দী আগে গ্রামের প্রবীণ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের উদ্যোগে এই প্রথার সূচনা হয়। তখন থেকেই গ্রামের মানুষ ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এক মাঠে কোরবানি দিয়ে সমানভাবে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন।

আরও পড়ুন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

সময়ের পরিবর্তনে গ্রামের জনসংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে কোরবানির পশুর সংখ্যাও। কিন্তু বদলায়নি গ্রামের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ। এই আয়োজন শুধু কোরবানির শিক্ষা নয়, বরং সমাজে সমতা, সহমর্মিতা ও একতার বার্তা বহন করে চলছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

ঈদকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাইরে থাকা মানুষও নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। ফলে পুরো গ্রামজুড়ে তৈরি হয় মিলনমেলা ও উৎসবের আবহ। আধুনিকতার এই সময়ে দাঁড়িয়ে বৈইলাজানের এই ঐতিহ্য সামাজিক বন্ধন ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।

আরও পড়ুন, ঈদের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা জজের বাসায় চুরি

সমাজসেবক আব্দুল আলিম আব্দুল্লাহ বলেন,বৈইলাজান গ্রামের এই সম্মিলিত কোরবানির আয়োজন আমাদের ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার প্রতীক। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে মানুষ এখানে একসাথে কোরবানি দিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। 

জেলা যুবদল নেতা সরকার শহীদ বলেন, বৈইলাজান গ্রামের মানুষ যুগের পর যুগ ধরে যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কোরবানি দিয়ে আসছেন, তা আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করছে। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই একসাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি ইতিবাচক শিক্ষা, যেখানে সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের চর্চা হয়। আমি আশা করি, এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও একইভাবে অটুট থাকবে।

আরও পড়ুন, মানুষ এখন চামড়া ছেড়ে সিনথেটিকের দিকে ঝুঁকছে: কৃষিমন্ত্রী

পুটিজানা ইউনিয়নের প্রশাসক রওশন জাহান বলেন,বৈইলাজান গ্রামের সম্মিলিত কোরবানির এই আয়োজন সত্যিই ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী যে শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই আয়োজন পরিচালনা করছেন, তা সমাজের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত