রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নৌহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিস্তা নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।নৌহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুলপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে তিস্তা নদী থেকে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৬০ মিটার। নদীভাঙন যেভাবে দ্রুত এগিয়ে আসছে, তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষা করতে এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
আরও পড়ুন, ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, বছরে প্রাণ গেল ১২ জনের
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনপদ তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিদ্যালয়টি এখন নদীর একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়টির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পুরো এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ হুমকির মুখে পড়বে।ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, “স্কুলটি রক্ষা করতে এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। শুধু আশ্বাস দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি চর বাগডহরা এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে—বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”এদিকে অব্যাহত নদীভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিষয় : তিস্তা নদী আতঙ্কে শিক্ষার্থী

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নৌহালী ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিস্তা নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।নৌহালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুলপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।এলাকাবাসী জানান, বর্তমানে তিস্তা নদী থেকে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৬০ মিটার। নদীভাঙন যেভাবে দ্রুত এগিয়ে আসছে, তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষা করতে এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আশ্বাসের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
আরও পড়ুন, ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, বছরে প্রাণ গেল ১২ জনের
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনপদ তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিদ্যালয়টি এখন নদীর একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়টির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পুরো এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ হুমকির মুখে পড়বে।ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, “স্কুলটি রক্ষা করতে এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। শুধু আশ্বাস দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি চর বাগডহরা এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।”এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে—বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”এদিকে অব্যাহত নদীভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন