দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ টাইলস আমদানি এবং ভুয়া রপ্তানির কাগজপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রপ্তানির কাগজপত্র তৈরি করে বন্ড সুবিধায় চীন থেকে টাইলস আমদানি করা হয়। পরে এসব পণ্য দেশের বাজারে সরবরাহ করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়। মামলার আসামিরা হলেন, হাসান শরিফ (৬২), মো. জিয়া উদ্দিন (৪৫), খাজা শাহাদতউল্লাহ (৫৪), মো. জিয়াউর রহমান (৪৮), আদিল রিজওয়ান (৪১), মো. খায়রুজ্জামান (৪৬), মো. শহিদুল হক (৫৭), হাসান শাহীন (৫০), দীপান্বিতা বড়ুয়া (৬৯) ও সুরীত বড়ুয়া (৭০)।

মামলার এজাহারে বলা হয়,নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০১৩ সালে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ‘আনফিনিশড টাইলস’ ঘোষণা দিয়ে ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন টাইলস আমদানি করে। তবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব পণ্য প্রকৃতপক্ষে ছিল সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত (ফিনিশড) টাইলস।

আরও পড়ুন, ঐতিহ্যের রক্ষায় টুরিস্ট পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

এজাহারে আরও বলা হয়, আমদানিকৃত টাইলস প্রক্রিয়াজাত করে শতভাগ রপ্তানির বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দেখিয়ে রপ্তানির কাগজপত্র দাখিল করে। ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি মূল্য দেশে এসেছে এমন তথ্যও দেখানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট অফ-ডক কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টরা লিখিতভাবে জানায়, তাদের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো রপ্তানি কার্যক্রম হয়নি এবং দাখিলকৃত বিল অব লেডিং তাদের ইস্যু করা নয়। চালান পরীক্ষণের দায়িত্বে থাকা দুই রাজস্ব কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং তারা সংশ্লিষ্ট চালান পরীক্ষা করেননি। ঘটনার প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

বিষয় : অভিযোগ দুদক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ টাইলস আমদানি এবং ভুয়া রপ্তানির কাগজপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া রপ্তানির কাগজপত্র তৈরি করে বন্ড সুবিধায় চীন থেকে টাইলস আমদানি করা হয়। পরে এসব পণ্য দেশের বাজারে সরবরাহ করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়। মামলার আসামিরা হলেন, হাসান শরিফ (৬২), মো. জিয়া উদ্দিন (৪৫), খাজা শাহাদতউল্লাহ (৫৪), মো. জিয়াউর রহমান (৪৮), আদিল রিজওয়ান (৪১), মো. খায়রুজ্জামান (৪৬), মো. শহিদুল হক (৫৭), হাসান শাহীন (৫০), দীপান্বিতা বড়ুয়া (৬৯) ও সুরীত বড়ুয়া (৭০)।

মামলার এজাহারে বলা হয়,নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০১৩ সালে শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ করে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ‘আনফিনিশড টাইলস’ ঘোষণা দিয়ে ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন টাইলস আমদানি করে। তবে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব পণ্য প্রকৃতপক্ষে ছিল সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত (ফিনিশড) টাইলস।

আরও পড়ুন, ঐতিহ্যের রক্ষায় টুরিস্ট পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

এজাহারে আরও বলা হয়, আমদানিকৃত টাইলস প্রক্রিয়াজাত করে শতভাগ রপ্তানির বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দেখিয়ে রপ্তানির কাগজপত্র দাখিল করে। ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি মূল্য দেশে এসেছে এমন তথ্যও দেখানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট অফ-ডক কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টরা লিখিতভাবে জানায়, তাদের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো রপ্তানি কার্যক্রম হয়নি এবং দাখিলকৃত বিল অব লেডিং তাদের ইস্যু করা নয়। চালান পরীক্ষণের দায়িত্বে থাকা দুই রাজস্ব কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে এবং তারা সংশ্লিষ্ট চালান পরীক্ষা করেননি। ঘটনার প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত