দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

আবাসিক এলাকায় হোটেল আমারি হলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়

আবাসিক এলাকায় হোটেল আমারি হলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়
আবাসিক এলাকায় হোটেল আমারি হলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান যেখানে কূটনৈতিক অঞ্চল, আবাসিক ভবন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট অফিসের অবস্থান। সেই গুলশানেরই একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হোটেল আমারি এবং হোটেলটিকে ঘিরে ঘিরে সম্প্রতি নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ও হোটেল মালিক তিনি একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরও সেখানে অনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বরং আরও গোপন ও নিয়ন্ত্রিতভাবে তা চালানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। অভিযানে একাধিক নারী ও পুরুষকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় বলেও জানা গেছে। যদিও মামলার বিস্তারিত তদন্তাধীন থাকায় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি। তবে প্রশ্ন উঠেছে একবার অভিযান হওয়ার পরও কেন একই হোটেল ঘিরে আবারও অভিযোগ উঠছে? হোটেলটিতে দেহব্যবসা থেকে শুরু করে একধিক অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হোটেলটিতে যারাই এসব অপরাধের সাথে জড়িত তারা উচ্চ পর্যায়ের এবং দেখে বোঝার উপায় নেই কে যৌনকর্মী, কে দালাল চক্র কিংবা কে খদ্দের যোগানদাতা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোটেলটি তিন-তারকা, পাঁচ তারকা বা তার ঊর্ধ্বতন কোনো স্বীকৃত শ্রেণির নয়। তবুও দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক এলাকার মধ্যে বাণিজ্যিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা ও সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রমে বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক এলাকায় হোটেল পরিচালনা মানেই ঝুঁকি বিশেষ করে যদি সেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকে। হোটেলটির ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি কথা বলতে কেউ রাজি না হলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সেখানে একটি নিয়ন্ত্রিত মধ্যস্থতাকারী চক্র সক্রিয়। বাইরে থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও পরিবেশ ভদ্র ও পেশাদার মনে হলেও ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

আরও পড়ুন, জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গভীর রাতে হোটেলটির ভেতর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও পার্টির শব্দ শোনা যায়। আবাসিক এলাকায় এমন কার্যক্রম স্বাভাবিক নয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এক বাসিন্দা বলেন, এখানে নিয়মিত পার্টি হয় বলে আমাদের মনে হয়। কিন্তু কে আসে, কী হয় সবই গোপন। তবে দৈনিক সংবাদ দিগন্তের অনুসন্ধান টিম একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। ফোনে ও সরাসরি দুইভাবেই যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে টিমটি সরাসরি হোটেল প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে এবং ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ সম্ভব নয়। তবে হোটেলটি বেশিরভাগ ব্যবহার করে থাকতেন স্বৈরাচারী আ.লীগ নেতা কর্মীরা এবং এখানে বসে বিভিন্ন অপরাধের ছক আঁকতেন।

অনুসন্ধানে কিছু সূত্র দাবি করেছে, অতীতে বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থদের আনাগোনা ছিল এই হোটেলে। তাদের ভাষায়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সুবিধার কারণে অনেকে এটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিতেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি। আরও কিছু সূত্র দাবি করেছে, অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে কিছু রাজনৈতিক কর্মী ও গোষ্ঠী এই হোটেলটিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করত। যদিও এসব দাবি যাচাইযোগ্য প্রমাণের অভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনো স্থাপনা দীর্ঘদিন নজরের বাইরে থাকে, তখন সেটিকে নানা গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করার চেষ্টা করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ না করলে সেটিও সংবাদযোগ্য তথ্য এমনটাই মনে করেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।

গুলশান থানা সূত্র জানায়, অভিযানের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন একজন কর্মকর্তা। আইন ও নগর ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি অভিযানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। দরকার নিয়মিত মনিটরিং, লাইসেন্স যাচাই ও স্বচ্ছ তদন্ত। গুলশানের মতো সংবেদনশীল এলাকায় কোনো হোটেলকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, তবে প্রতিবারই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। অভিযানের পরও যদি প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে সেটি প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা। এই প্রতিবেদন কোনো চূড়ান্ত রায় নয় বরং এটি প্রশ্ন, অভিযোগ ও অনুসন্ধানের ফলাফল। চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত। 

আরও পড়ুন, ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা ও মাদককারবারি মুলহোতা মনির গাজী

এদিকে আবাসিক এলাকায় হোটেল বা গেস্টহাউস পরিচালনার বিষয়টি সরাসরি আইন ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। সাধারণভাবে বলা যায়, আবাসিক এলাকায় ইচ্ছেমতো হোটেল পরিচালনা করা বৈধ নয়। ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা মূলত বসবাসের জন্য নির্ধারিত। নগর পরিকল্পনা বিধিমালা অনুসারে, কোনো ভবন যদি আবাসিক হিসেবে অনুমোদিত হয়, তবে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম—বিশেষ করে হোটেল, গেস্টহাউস বা বিনোদনমূলক আয়োজন—চালাতে হলে বিশেষ অনুমোদন ও শ্রেণি পরিবর্তন (ল্যান্ড ইউজ চেঞ্জ) প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদন রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পর্যটন করপোরেশনসহ একাধিক সংস্থার ছাড়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়। অনুমোদন ছাড়া আবাসিক এলাকায় হোটেল পরিচালনা করলে তা নিয়মবহির্ভূত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল কিংবা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার ক্ষমতা রাখে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক এলাকায় অবৈধ হোটেল কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং নিরাপত্তা, পরিবেশ ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগ জরুরি। তবে হোটেলটি বিভিন্ন সোসাল মিডিয়াতে দেখাচ্ছে এটি পাঁচ তারকা হোটেল। যদি তাই হয় পাঁচ তারকা হেটেল মানে সমাজের অপৃত্তিকর ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। নাকি তাদের তাদের অনুমোদনে কোথাও উল্লেখ করা রয়েছে নারী বাণিজ্য, মব সৃষ্টির আড্ডা খানা, মাদক কিংবা ডিজে। আরো বিস্তারিত আসছে...

বিষয় : নজরদারি প্রশাসন আবাসিক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


আবাসিক এলাকায় হোটেল আমারি হলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান যেখানে কূটনৈতিক অঞ্চল, আবাসিক ভবন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট অফিসের অবস্থান। সেই গুলশানেরই একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হোটেল আমারি এবং হোটেলটিকে ঘিরে ঘিরে সম্প্রতি নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ও হোটেল মালিক তিনি একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরও সেখানে অনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বরং আরও গোপন ও নিয়ন্ত্রিতভাবে তা চালানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। অভিযানে একাধিক নারী ও পুরুষকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় বলেও জানা গেছে। যদিও মামলার বিস্তারিত তদন্তাধীন থাকায় পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি। তবে প্রশ্ন উঠেছে একবার অভিযান হওয়ার পরও কেন একই হোটেল ঘিরে আবারও অভিযোগ উঠছে? হোটেলটিতে দেহব্যবসা থেকে শুরু করে একধিক অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হোটেলটিতে যারাই এসব অপরাধের সাথে জড়িত তারা উচ্চ পর্যায়ের এবং দেখে বোঝার উপায় নেই কে যৌনকর্মী, কে দালাল চক্র কিংবা কে খদ্দের যোগানদাতা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোটেলটি তিন-তারকা, পাঁচ তারকা বা তার ঊর্ধ্বতন কোনো স্বীকৃত শ্রেণির নয়। তবুও দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক এলাকার মধ্যে বাণিজ্যিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। নগর পরিকল্পনা ও সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রমে বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক এলাকায় হোটেল পরিচালনা মানেই ঝুঁকি বিশেষ করে যদি সেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকে। হোটেলটির ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে সরাসরি কথা বলতে কেউ রাজি না হলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সেখানে একটি নিয়ন্ত্রিত মধ্যস্থতাকারী চক্র সক্রিয়। বাইরে থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও পরিবেশ ভদ্র ও পেশাদার মনে হলেও ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

আরও পড়ুন, জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গভীর রাতে হোটেলটির ভেতর উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও পার্টির শব্দ শোনা যায়। আবাসিক এলাকায় এমন কার্যক্রম স্বাভাবিক নয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এক বাসিন্দা বলেন, এখানে নিয়মিত পার্টি হয় বলে আমাদের মনে হয়। কিন্তু কে আসে, কী হয় সবই গোপন। তবে দৈনিক সংবাদ দিগন্তের অনুসন্ধান টিম একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। ফোনে ও সরাসরি দুইভাবেই যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে টিমটি সরাসরি হোটেল প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে এবং ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ সম্ভব নয়। তবে হোটেলটি বেশিরভাগ ব্যবহার করে থাকতেন স্বৈরাচারী আ.লীগ নেতা কর্মীরা এবং এখানে বসে বিভিন্ন অপরাধের ছক আঁকতেন।

অনুসন্ধানে কিছু সূত্র দাবি করেছে, অতীতে বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থদের আনাগোনা ছিল এই হোটেলে। তাদের ভাষায়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার সুবিধার কারণে অনেকে এটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিতেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি। আরও কিছু সূত্র দাবি করেছে, অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে কিছু রাজনৈতিক কর্মী ও গোষ্ঠী এই হোটেলটিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করত। যদিও এসব দাবি যাচাইযোগ্য প্রমাণের অভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনো স্থাপনা দীর্ঘদিন নজরের বাইরে থাকে, তখন সেটিকে নানা গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করার চেষ্টা করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ না করলে সেটিও সংবাদযোগ্য তথ্য এমনটাই মনে করেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।

গুলশান থানা সূত্র জানায়, অভিযানের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন একজন কর্মকর্তা। আইন ও নগর ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি অভিযানে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। দরকার নিয়মিত মনিটরিং, লাইসেন্স যাচাই ও স্বচ্ছ তদন্ত। গুলশানের মতো সংবেদনশীল এলাকায় কোনো হোটেলকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, তবে প্রতিবারই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। অভিযানের পরও যদি প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে সেটি প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা। এই প্রতিবেদন কোনো চূড়ান্ত রায় নয় বরং এটি প্রশ্ন, অভিযোগ ও অনুসন্ধানের ফলাফল। চূড়ান্ত সত্য নির্ধারণ করবে তদন্ত ও আদালত। 

আরও পড়ুন, ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা ও মাদককারবারি মুলহোতা মনির গাজী

এদিকে আবাসিক এলাকায় হোটেল বা গেস্টহাউস পরিচালনার বিষয়টি সরাসরি আইন ও নগর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। সাধারণভাবে বলা যায়, আবাসিক এলাকায় ইচ্ছেমতো হোটেল পরিচালনা করা বৈধ নয়। ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা মূলত বসবাসের জন্য নির্ধারিত। নগর পরিকল্পনা বিধিমালা অনুসারে, কোনো ভবন যদি আবাসিক হিসেবে অনুমোদিত হয়, তবে সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম—বিশেষ করে হোটেল, গেস্টহাউস বা বিনোদনমূলক আয়োজন—চালাতে হলে বিশেষ অনুমোদন ও শ্রেণি পরিবর্তন (ল্যান্ড ইউজ চেঞ্জ) প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদন রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পর্যটন করপোরেশনসহ একাধিক সংস্থার ছাড়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়। অনুমোদন ছাড়া আবাসিক এলাকায় হোটেল পরিচালনা করলে তা নিয়মবহির্ভূত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল কিংবা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার ক্ষমতা রাখে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক এলাকায় অবৈধ হোটেল কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং নিরাপত্তা, পরিবেশ ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগ জরুরি। তবে হোটেলটি বিভিন্ন সোসাল মিডিয়াতে দেখাচ্ছে এটি পাঁচ তারকা হোটেল। যদি তাই হয় পাঁচ তারকা হেটেল মানে সমাজের অপৃত্তিকর ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। নাকি তাদের তাদের অনুমোদনে কোথাও উল্লেখ করা রয়েছে নারী বাণিজ্য, মব সৃষ্টির আড্ডা খানা, মাদক কিংবা ডিজে। আরো বিস্তারিত আসছে...


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত