দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে বিস্তৃত শাকিব চক্রের নেটওয়ার্ক

দেশজুড়ে বিস্তৃত শাকিব চক্রের নেটওয়ার্ক
দেশজুড়ে বিস্তৃত শাকিব চক্রের নেটওয়ার্ক

অ্যাপভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং ‘ফরেক্স ট্রেডিং’-এর আড়ালে ডিজিটাল প্রতারক চক্র নিরীহ মানুষের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশি মুনাফার আশায় কয়েক হাজার মানুষ এই অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে এখন সর্বস্বান্ত। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের অন্যতম হোতা শাকিব উদ্দিন ও তার সহযোগীরা বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেছেন। তারা ইতোমধ্যে দুবাই পালিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শাকিব চক্র বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করেও নতুন কৌশলে প্রতারণার নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। দেশের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় তারা একটি শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অল্প বিনিয়োগে বড় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেন জানান, ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কে তার কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না। অতিরিক্ত আয়ের আশায় তিনি সজিব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই ট্রেডিংয়ে যুক্ত হন।

আরও পড়ুন, বিজয় দিবসে তেজগাঁও বিমানবন্দরে ড্রোন ওড়ানো বন্ধের আহ্বান

তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে অল্প টাকা বিনিয়োগ করি এবং কিছু লাভও আসে। পরে আমাকে বলা হয়, বেশি টাকা বিনিয়োগ করলে লাভও বেশি হবে। লোভে পড়ে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করার পর প্রতারক চক্র আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে বুঝতে পারি, আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমার মতো আরও অনেকেই এই চক্রের ফাঁদে পড়েছেন, তবে অনেকে লজ্জার কারণে বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না।’

শাকিব উদ্দিনের নেটওয়ার্কে কাজ করে পরে নিজেও প্রতারিত হওয়া এক যুবক জানান, লোকজনকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করার বিনিময়ে তাদের কমিশন দেওয়া হতো। তাদের মূল কাজ ছিল সাধারণ মানুষকে বোঝানো এবং বিনিয়োগে আগ্রহী করা। তিনি বলেন, এই প্রতারণার জাল এখন এতটাই বিস্তৃত যে অনেক শিক্ষিত মানুষও এতে জড়িয়ে পড়েছেন। চক্রটি বিশেষভাবে এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করে, যাদের সহজেই বিনিয়োগে আগ্রহী করা যায়। বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের এজেন্টরা দেশের প্রায় সব জেলায় সক্রিয়।

আরও পড়ুন, লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ পাওয়া না পর্যন্ত নির্বাচনের মেয়াদ স্থগিত চেয়ে নোটিশ

অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ ডলার বা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে, বিশেষ করে দুবাইয়ে পাচার করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণামূলক ট্রেডিং দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এর মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত এসব প্রতারককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তারা।

এ বিষয়ে সাংবাদিক নিরঝর আলম বলেন, শাকিব উদ্দিনকে নিয়ে গণমাধ্যমে অতীতে একাধিক ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। প্রতারকদের সম্পর্কে যথাযথ যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে গণমাধ্যমকে বিরত থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে শাকিব উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। এই ধরনের প্রতারণামূলক অর্থপাচার বন্ধে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল।

বিষয় : নেটওয়ার্ক বিস্তৃত শাকিব চক্র

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


দেশজুড়ে বিস্তৃত শাকিব চক্রের নেটওয়ার্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

অ্যাপভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং ‘ফরেক্স ট্রেডিং’-এর আড়ালে ডিজিটাল প্রতারক চক্র নিরীহ মানুষের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশি মুনাফার আশায় কয়েক হাজার মানুষ এই অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে এখন সর্বস্বান্ত। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের অন্যতম হোতা শাকিব উদ্দিন ও তার সহযোগীরা বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেছেন। তারা ইতোমধ্যে দুবাই পালিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শাকিব চক্র বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করেও নতুন কৌশলে প্রতারণার নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। দেশের কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় তারা একটি শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অল্প বিনিয়োগে বড় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেন জানান, ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কে তার কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না। অতিরিক্ত আয়ের আশায় তিনি সজিব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই ট্রেডিংয়ে যুক্ত হন।

আরও পড়ুন, বিজয় দিবসে তেজগাঁও বিমানবন্দরে ড্রোন ওড়ানো বন্ধের আহ্বান

তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে অল্প টাকা বিনিয়োগ করি এবং কিছু লাভও আসে। পরে আমাকে বলা হয়, বেশি টাকা বিনিয়োগ করলে লাভও বেশি হবে। লোভে পড়ে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করার পর প্রতারক চক্র আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে বুঝতে পারি, আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমার মতো আরও অনেকেই এই চক্রের ফাঁদে পড়েছেন, তবে অনেকে লজ্জার কারণে বিষয়টি প্রকাশ করতে চান না।’

শাকিব উদ্দিনের নেটওয়ার্কে কাজ করে পরে নিজেও প্রতারিত হওয়া এক যুবক জানান, লোকজনকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করার বিনিময়ে তাদের কমিশন দেওয়া হতো। তাদের মূল কাজ ছিল সাধারণ মানুষকে বোঝানো এবং বিনিয়োগে আগ্রহী করা। তিনি বলেন, এই প্রতারণার জাল এখন এতটাই বিস্তৃত যে অনেক শিক্ষিত মানুষও এতে জড়িয়ে পড়েছেন। চক্রটি বিশেষভাবে এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করে, যাদের সহজেই বিনিয়োগে আগ্রহী করা যায়। বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের এজেন্টরা দেশের প্রায় সব জেলায় সক্রিয়।

আরও পড়ুন, লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ পাওয়া না পর্যন্ত নির্বাচনের মেয়াদ স্থগিত চেয়ে নোটিশ

অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ ডলার বা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে, বিশেষ করে দুবাইয়ে পাচার করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণামূলক ট্রেডিং দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এর মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত এসব প্রতারককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তারা।

এ বিষয়ে সাংবাদিক নিরঝর আলম বলেন, শাকিব উদ্দিনকে নিয়ে গণমাধ্যমে অতীতে একাধিক ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। প্রতারকদের সম্পর্কে যথাযথ যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে গণমাধ্যমকে বিরত থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে শাকিব উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। এই ধরনের প্রতারণামূলক অর্থপাচার বন্ধে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত