দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

রাজস্ব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিস্তৃত ঘাটতি নিয়ে বাজেট পরিকল্পনা

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া জনবান্ধব অঙ্গীকার পূরণের কাজ শুরু করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, রাজস্ব আয়ের শ্লথগতি, আইএমএফের কঠোর শর্ত পূরণের চাপ বাজেট প্রণয়নে সরকারকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি বাজেট পেশের মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এবারের বাজেট গতানুগতিক হবে না; এটি হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকারী এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতিমুক্ত। তবে আইএমএফের শর্ত অনুসারে ভ্যাট বাড়ানো, সাবসিডি কমানো এবং করব্যবস্থায় সংস্কারের চাপ থাকবে, যা জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার আট লাখ ৪৮ হাজার থেকে সাড়ে আট লাখ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হতে পারে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। আরো পড়ুন , পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলবে: গভর্নরচলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। পরে তা দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। গত ২৪ ডিসেম্বর সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল সাত লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথমবার, যখন পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বাজেটের আকার কমানো হয়।চলতি অর্থবছরে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। কিন্তু নতুন অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতির অঙ্ক দুই লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রাজস্ব আয়ে গতি না থাকায় ঘাটতি জিডিপির ৪-৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, রাজস্ব ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে আগামী বাজেটের অর্থায়ন হবে অত্যন্ত দুরূহ। একদিকে সরকারি বেতন বৃদ্ধির চাপ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি ও আমদানীকৃত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতিকে আরো সংকটে ফেলবে। বিশাল রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈদেশিক অনুদান কমে আসা বাজেট ব্যবস্থাপনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রাজস্ব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিস্তৃত ঘাটতি নিয়ে বাজেট পরিকল্পনা