দৈনিক সংবাদ দিগন্ত
প্রকাশ : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে পলাশবাড়ীতে লাভবান কৃষকরা

ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে পলাশবাড়ীতে লাভবান কৃষকরা
ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে পলাশবাড়ীতে লাভবান কৃষকরা

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। পরিবেশবান্ধব, লাভজনক ও ফসল বেশি হওয়ায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর কৃষকরা এ সার উৎপাদনে ও ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন। কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহারে কৃষকদের ইতিবাচক সাড়াও মিলছে বলে জানায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। এমনই একজন কৃষক উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৬০)। তিনি বাণিজ্যিকভাবে এই সার উৎপাদন করে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

জানা যায়, কৃষক আব্দুস সালাম লোকমুখে শুনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রকল্পের আওতায় তার গ্রামে পূর্বে থেকেই গঠিত কেশবপুর গরু হৃষ্টপৃষ্টকরণ পিজি দলের মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের পরামর্শ নেন। পরামর্শ অনুয়ায়ী দপ্তর থেকে বাড়ি এসে কেশবপুর গরু হৃষ্টপৃষ্টকরণ পিজি দলের ৩০ জন নারী-পুরুষ সদস্যদের সাথে নিয়ে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৭ সদস্যের একটি নির্বাহী পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। দলের মাসিক সভা মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রত্যেক সদস্যের নিকট থেকে ২শ’ টাকা সঞ্চয় উত্তোলন করা হয়। সঞ্চয়ের অর্থবৃদ্ধির সাথে সাথে মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলতি বছরের শুরুতেই সংঠনের সকল সদস্য মিলে গোবর এবং ১ কেজি কেঁচো সংগ্রহ করে ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন।


আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সমন্বিত কাজের আহ্বান নবাগত ওসি মুহিববুল্লাহ


মাস খানেক পর ভার্মি কম্পোস্ট সার বিক্রির উপযোগী হলে এলাকার কৃষকদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেন। প্রথম লটেই তাদের লাভ হয় দ্বিগুন। ফলে তারা তাদের সার তৈরি কার্যক্রম চালিয়ে যান। সংগঠনের সদস্যরা এখন তাদের নিজস্ব গরু’র গোবর দিয়ে সার তৈরি করছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কমে গেছে। ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সার ব্যবহারে গুণাগুণ ভালো পাওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে এ সারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে লাভের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জৈব সার তৈরিতে দলের সদস্যের ভাগ্যের চাকা ঘুড়ে যাচ্ছে।

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কেশবপুর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ পিজি দলটির ৩০ জন নারী-পুরুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পৃথক পৃথক ভাবে ১৫ দিন বিষাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়াও উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কেশবপুর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ পিজি দলের জৈব সার তৈরির লট মাঝে মধ্যেই পরিদর্শন করছেন। উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন অর রশীদ জানান, আমাদের প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ পিজি দলের ৩০ জন সদস্য রয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে তারা একটি সমন্বয় সভার মাধ্যমে তাদের গচ্ছিত সঞ্চয় দিয়ে কেঁচো জৈব সার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে সার তৈরি শুরু করেছেন। ব্যাবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬


ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে পলাশবাড়ীতে লাভবান কৃষকরা

প্রকাশের তারিখ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন। পরিবেশবান্ধব, লাভজনক ও ফসল বেশি হওয়ায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর কৃষকরা এ সার উৎপাদনে ও ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন। কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহারে কৃষকদের ইতিবাচক সাড়াও মিলছে বলে জানায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। এমনই একজন কৃষক উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৬০)। তিনি বাণিজ্যিকভাবে এই সার উৎপাদন করে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

জানা যায়, কৃষক আব্দুস সালাম লোকমুখে শুনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রকল্পের আওতায় তার গ্রামে পূর্বে থেকেই গঠিত কেশবপুর গরু হৃষ্টপৃষ্টকরণ পিজি দলের মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের পরামর্শ নেন। পরামর্শ অনুয়ায়ী দপ্তর থেকে বাড়ি এসে কেশবপুর গরু হৃষ্টপৃষ্টকরণ পিজি দলের ৩০ জন নারী-পুরুষ সদস্যদের সাথে নিয়ে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৭ সদস্যের একটি নির্বাহী পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। দলের মাসিক সভা মাধ্যমে প্রতিমাসে প্রত্যেক সদস্যের নিকট থেকে ২শ’ টাকা সঞ্চয় উত্তোলন করা হয়। সঞ্চয়ের অর্থবৃদ্ধির সাথে সাথে মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলতি বছরের শুরুতেই সংঠনের সকল সদস্য মিলে গোবর এবং ১ কেজি কেঁচো সংগ্রহ করে ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন।


আরও পড়ুন, সোনারগাঁয়ে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে সমন্বিত কাজের আহ্বান নবাগত ওসি মুহিববুল্লাহ


মাস খানেক পর ভার্মি কম্পোস্ট সার বিক্রির উপযোগী হলে এলাকার কৃষকদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেন। প্রথম লটেই তাদের লাভ হয় দ্বিগুন। ফলে তারা তাদের সার তৈরি কার্যক্রম চালিয়ে যান। সংগঠনের সদস্যরা এখন তাদের নিজস্ব গরু’র গোবর দিয়ে সার তৈরি করছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কমে গেছে। ভার্মি কম্পোস্ট জৈব সার ব্যবহারে গুণাগুণ ভালো পাওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে এ সারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে লাভের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জৈব সার তৈরিতে দলের সদস্যের ভাগ্যের চাকা ঘুড়ে যাচ্ছে।

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কেশবপুর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ পিজি দলটির ৩০ জন নারী-পুরুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পৃথক পৃথক ভাবে ১৫ দিন বিষাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেন। এছাড়াও উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কেশবপুর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ পিজি দলের জৈব সার তৈরির লট মাঝে মধ্যেই পরিদর্শন করছেন। উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন অর রশীদ জানান, আমাদের প্রকল্পের আওতায় কেশবপুর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ পিজি দলের ৩০ জন সদস্য রয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে তারা একটি সমন্বয় সভার মাধ্যমে তাদের গচ্ছিত সঞ্চয় দিয়ে কেঁচো জৈব সার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে সার তৈরি শুরু করেছেন। ব্যাবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।


দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সম্পাদক ও প্রকাশক: এ বি এম মনিরুজ্জামান 
নির্বাহী সম্পাদক: রিপন রুদ্র
যুগ্ম সম্পাদক: জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদ দিগন্ত । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত