শীতে হেয়ার ড্রায়ারের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের ক্ষতি বাড়ায়
শীতে ভেজা চুল দ্রুত শুকাতে হেয়ার ড্রায়ারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন অনেকেই। ঠাণ্ডায় চুলের ভেজা-ভাব কমিয়ে আরাম দিতে পারে এই যন্ত্র। তবে এই অভ্যাস নিয়মিত ও অতিরিক্ত হলে চুলের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে নেতিবাচক প্রভাব। শীতের শুষ্ক আবহাওয়াতে চুলের আর্দ্রতাও কমে। তার ওপর অতিরিক্ত গরম বাতাস চুলের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস সরাসরি চুলের বাইরের স্তর কিউটিকলের ওপর আঘাত করে। এই কিউটিকলই চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। “বারবার গরম বাতাস লাগলে কিউটিকল খুলে যায় ও রুক্ষ হয়ে ওঠে”- বলেন জারা'স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারের প্রধান ও রূপবিশারদ ফারহানা রুমি।তার মতে, “এতে চুল সহজে ভেঙে যায়, আগা ফাটা বাড়ে এবং চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়। চুলের আগার অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ এই অংশে প্রাকৃতিক তেল তুলনামূলক কম থাকে।” শীতের সময় বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে এবং চুলও অনেকেটাই শুষ্ক হয়ে পড়ে। হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাস চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক পানি আরও দ্রুত বের করে দেয়। ফলে চুল খসখসে ও এলোমেলো দেখাতে শুরু করে।এছাড়া চুল পড়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে। কারণ শুষ্ক ও দুর্বল চুল সহজেই ভেঙে যায়। দ্রুত চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহারে, চুলের ভেতরের প্রোটিন কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, জানান ফারহানা রুমি। দীর্ঘদিন এভাবে ব্যবহার করলে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া এবং চুলে হাত দিলে খড়খড়ে অনুভূতি হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। বিশেষ করে রং করা বা রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত চুলে এই ক্ষতি আরও দ্রুত হয়।একটানা দীর্ঘ সময় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা চুলের জন্য ক্ষতিকর। এতে চুল অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং তাপজনিত চাপ সৃষ্টি হয়। চুল শুকাতে গিয়ে স্কাল্প বা মাথার ত্বক গরম হয়ে উঠতে পারে, যা খুশকি ও চুলকানির সমস্যা বাড়ায়। তাই একটানা ড্রায়ার না চালিয়ে কিছু সময় পরপর বিরতি নেওয়া জরুরি। চুলে তাপ লাগার পর কিছু সময় বিরতি দিলে চুলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে। সাধারণভাবে দুই থেকে তিন মিনিট ড্রায়ার ব্যবহারের পর অন্তত এক মিনিট বিরতি নেওয়া ভালো।আরও পড়ুন, বিভিন্ন ভর্তা তৈরির সহজ রেসিপিএতে চুল অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং ক্ষতির মাত্রাও হ্রাস পায়। বিরতির সময় আঙুল দিয়ে আলতো করে চুল ছড়িয়ে দিলে বাতাস চলাচল সহজ হয়। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের আগে তোয়ালে দিয়ে চুলের অতিরিক্ত পানি মুছে নিলে ড্রায়ারের প্রয়োজনীয় সময় কমে যায়। মাঝারি তাপমাত্রা ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। আবার খুব কাছ থেকে গরম বাতাস না দিয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চুল শুকানো ভালো।ড্রায়ারের ঠাণ্ডা বাতাসের সুবিধা থাকলে শেষ পর্যায়ে তা ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল কিছুটা বন্ধ হতেও সাহায্য করে। শীতে চুলের যত্নে বাড়তি সতর্কতা “শীতকালে চুলে নিয়মিত তেল বা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে শুষ্কতা কমে”- পরামর্শ দেন ফারহানা রুমি। সপ্তাহে এক বা দুই দিন গভীর কন্ডিশনিং করলে চুল আর্দ্র থাকে এবং হেয়ার ড্রায়ারের ক্ষতিও কিছুটা পুষিয়ে যায় বলে মত দেন, এই রূপবিশারদ।