সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে অস্ত্রসহ ২ ডাকাত আটক, জিম্মি থাকা ৩ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পৃথক দুইটি বিশেষ অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতরে পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তাদের আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে।আরও পড়ুন, ভূমধ্যসাগরের নীল জল অনেক পরিবারের কান্নার সাক্ষীআটককৃতরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) এবং খুলনার পাইকগাছা থানার বাবুল সানা (৪২)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। অপর এক অভিযানে, আরও একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে গত ৩১ মার্চ সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকা থেকে একটি নৌকাসহ তিন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া ও স্টেশন কৈখালী যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযান চলাকালে ডাকাতদের কাছ থেকে জিম্মি থাকা একটি নৌকাসহ তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায়। এ সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি এবং একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।আরও পড়ুন, তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি‘র বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলপ্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত দেড় বছরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন সদস্য আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ১ হাজার ৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।