সুন্দরবনের প্রবেশ নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অভিযোগে সাত জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত দুটি নৌকা জব্দ করা হয়। নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ১৫০ কেজি মাছ, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পুষ্পকাটি অভয়ারণ্যের তালতলি খাল এবং কদমতলা স্টেশনের ফিরিঙ্গি খালে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে বন বিভাগের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা দুটি নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ১৫০ কেজি মাছ, ৫৭টি আটুন, তিনটি ড্রাম, ৩০০ ফুট ফাঁস জাল, একটি ককশিট, একটি হুইল, একটি দাঁড়, দুটি বৈঠা, দুটি হুক, একটি কুড়াল ও নয়টি পানির ড্রাম উদ্ধার করা হয়।আরও পড়ুন,যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝালকাঠিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আটক জেলেরা হলেন—আলী গাজীর ছেলে মোহাম্মদ তৈয়ব আলী (৫৫), সৈয়দ আলী গাজীর ছেলে শাহাবাজ আলী (৫২), রুহুল আমিন গাইনের ছেলে আইয়ুব আলী গাইন (৫৫), আমিন আলীর ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৫৪), করিম গাইনের ছেলে ছালাম গাইন (৫৬), অলি গাজীর ছেলে আব্দুর রউফ (৪০) এবং আব্দুল রশিদের ছেলে মো. আলিম (৩৮)। তাঁরা সবাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পাশ্বেমারি গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া শিকারসহ বন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। সুন্দরবনের সংরক্ষিত ও অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্যপ্রাণী, জলজ জীববৈচিত্র্য এবং বনজ সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।