দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

সমুদ্রের বুকে আটকে ঈদ কাটালেন ৩১ নাবিক

ঈদ মানেই পরিবার, আনন্দ আর আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর দিন। কিন্তু সেই ঈদই এবার কেটেছে সমুদ্রের বুকে, পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা–এর ৩১ জন নাবিকের ঈদুল আজহা কেটেছে জাহাজের ডেকে, অনিশ্চয়তা আর ঘরে ফেরার অপেক্ষায়।আরও পড়ুন, ঈদের আদর্শে ঐক্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতিরবুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জাহাজের নেভিগেশন ব্রিজে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খানের ইমামতিতে নামাজ আদায় করেন সব নাবিক। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ, পরিবার ও স্বজনদের জন্য দোয়া করেন তারা।  এর আগের ঈদুল ফিতরও তাদের কেটেছে সাগরে ভাসতে ভাসতে। এবার কোরবানির ঈদে পরিবারে ফেরার আশা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সেই প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি।আরও পড়ুন, প্রবাসের ঈদে আনন্দ-বেদনার মিশেলগত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এরপর হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে জাহাজটি আটকে পড়ে পারস্য উপসাগরে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো এটি প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি।একই সময়ে অন্য দেশের অনেক জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেলেও বাংলাদেশি জাহাজটির ক্ষেত্রে এখনো মেলেনি সবুজ সংকেত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাগরে আটকে আছেন নাবিকরা, পরিবার থেকেও রয়েছেন বিচ্ছিন্ন।আরও পড়ুন, ঈদে সেনাসদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীরক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “কবে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারব, তা এখনো নিশ্চিত না। দীর্ঘদিন সাগরে আটকে থাকা মানসিকভাবে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।” টানা কয়েক মাস ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই ৩১ জন নাবিক এখন কেবল ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। প্রতিটি দিন তাদের কাছে নতুন প্রত্যাশা, আর প্রতিটি রাত যেন স্বজনদের কাছে ফেরার নীরব আকুতি।

সমুদ্রের বুকে আটকে ঈদ কাটালেন ৩১ নাবিক