দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করছেন, আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, আর সেই হতাশা থেকেই জনক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে। (১০ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরেন। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, নওগাঁ জেলায় ৪ জন, চট্টগ্রামে ৩ জন এবং গাজীপুরে ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এগুলো কি শুধুই সামাজিক বিশৃঙ্খলা, নাকি আইনের সঠিক প্রয়োগ না হওয়ায় জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ?আরও পড়ুন , হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারানো হয়েছে: কর্নেল অলিজামায়াত আমির স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগ জনগণের কাছে আস্থাশীল ও গ্রহণযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।তার মতে, কেবল কঠোর বক্তব্য নয়—সদিচ্ছা, কার্যকর উদ্যোগ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলেই সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গণপিটুনি, সহিংসতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়তে থাকায় সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।আরও পড়ুন , আইনের দুর্বল প্রয়োগেই জনঅসন্তোষ বাড়ছে: ডা. শফিকুর রহমান