দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

নির্মাণের দুই বছর না পেরোতেই খানাখন্দে পরিণত ঈশ্বরদী–বানেশ্বর সড়ক

ঈশ্বরদী –বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কের কোথাও উঁচুনিচু আবার কোথাও গভীর গর্ত হয়ে বেড়িয়ে গেছে সড়কের ঢালাইয়ের রড। ঝুঁকি থাকার পরও এভাবেই ব্যস্ততম এই সড়কে চলাচল করছে যানবাহন। তবে মাত্র ২ বছরেই ৪৭৫ কোটি টাকা ব্যায়ে সংষ্কার হওয়া ঈশ্বরদী-বানেশ্বর মহাসড়কের এমন বেহাল দশা দেখে বিষ্মিত এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহন চালকরা। সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের পাবনা এবং রাজশাহী বিভাগীয় কার‌্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বানেশ্বর হতে পাবনার ঈশ্বরদীর আলহাজ্ব মোড় পর‌্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার রাস্তার সংষ্কার ও প্রসস্তকরণ কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। ৪৭৫ কোটি টাকা ব্যায়ের এই প্রকল্পটির কাজ করেন ৭ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার ঈশ্বরদী অংশ অর্থাৎ আড়ামবাড়িয়া থেকে আলহাজ্ব মোড় পর‌্যন্ত ৮.৩ কিলোমিটারের কাজ করেন ডন মোজাহার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কাজ বাবদ মোট ৫৭ কোটি টাকার বিলও পরিশোধ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।তবে মেরামতের ২ বছর যেতে না যেতেই ঈশ্বরদীর সীমানার ২ পাশের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া সড়ক দেবে একাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গল এবং বুধবার সড়কের ঈশ্বরদীস্থ আলহাজ্বমোড় থেকে রেলওয়ে গেট হয়ে আড়াম বাড়িয়া বাজারের শেষ সীমানা পর‌্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে সড়কে অন্তত ৩৫ টি স্থানে ফাটলসহ গর্ত দেখা গেছে। আড়াম বাড়িয়া বাজার এলাকায় ঢালাইয়েরশুরু এবং শেষাংশে ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ১৫ জায়গা থেকে ঢালাইয়ের পাথর উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আরও পড়ুন, নিবন্ধনহীন সার্ভেয়া নিবন্ধনহীন সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে জমি পরিমাপে অনিয়মের অভিযোগকোথাও কোতাও সড়কের বিটুমিন সড়েগিয়ে উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। এদিকে গার্লস স্কুলমোড় এলাকার পুরো ঢালাই জুড়ে গর্তে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।সদ্য তৈরী রাস্তায় এমন খানা খন্দে ছোট বড় যানবাহন ও পথচারী চলাচলে ভোগান্তি ও দুর্ভোগ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে গত সোমবার থেকে পাবনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ বিটুমিন, বালু ও ইট দিয়ে সড়কের গর্ত ভরাট কাজ শুরু করেছে।অভিযোগ উঠেছে, সড়কটি নির্মাণকালে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সুষ্ঠু তদারকি না থাকায় নির্মান কাজের গুণগতমান খারাপ হয়েছে। ফলস্রুতিতে দু বছর না যেতেই সড়কের দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।উপজেলার আরামবাড়িয়া বাজার এলাকার আব্দুল মোমিন বলেন, সড়কটি সংস্কারের প্রথম দিকে কাজ খারাপ করতে দেখে এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু সে সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা আমাদের বাধা প্রদান করলে আমরা সরে যেতে বাধ্য হই। এখন সেটার ফলাফল আমরা ভোগ করছি।রেলওয়ে গেট সংলগ্ন ব্যবসায়ী টুটুল বলেন, ‘সড়কে কাজের মান ভালো না হওয়ায় সে সময় বেশ কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদের রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরীন ঝিনুক বলেন, যদিও সড়কের অবস্থা না দেখে কিছুই বলা যাচ্ছে না তবে জলাবদ্ধতার কারনে এমন হতে পারে।সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে পাবনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, নিয়মের বাইরে কিছু হয়েছে কি না সেটা আমি বলতে পারছিনা। কারন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর আমি যোগদান করেছি।

নির্মাণের দুই বছর না পেরোতেই খানাখন্দে পরিণত ঈশ্বরদী–বানেশ্বর সড়ক