দেশে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি দমনে প্রয়োজন ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ, অপহরণ, জমি ও ফ্ল্যাট দখল, মব সৃষ্টি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের নানা ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দলবদ্ধ হামলা, সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কা এবং অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলের উদ্বেগের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কি আবারও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে? বিশেষ করে আগে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’এর আদলে নতুন করে কোনো সমন্বিত অভিযান চালানো প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধু অভিযান চালিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না, নাকি এর সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত তদন্ত, মামলা নিষ্পত্তি এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।আরও পড়ুন : সত্য ও জনমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে আরও দূর পথপুলিশ সদরদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাসভিত্তিক অপরাধের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও হত্যা, সংঘর্ষ, অপহরণ, মব হামলা ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। ইধহমষধফবংয চড়ষরপব জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, মার্চ থেকে মে এই তিন মাসে দেশে ৯১৫টি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। একই প্রতিবেদনে রাজনৈতিক বিরোধ, অপরাধীচক্রের দ্বন্দ্ব, অবৈধ অস্ত্র এবং দুর্বল আইন প্রয়োগকে সহিংসতার বিভিন্ন কারণ হিসেবে বিশ্লেষকদের বক্তব্যে তুলে ধরা হয়।দেশে এর আগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান শুরুর পর ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও দেওয়া হয়।আরও পড়ুন, সাভার গেন্ডায় ঢাকা ইন গেস্ট হাউজে জুলহাসের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সিন্ডিকেট এর আগে জানুয়ারির শুরুতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ১৪ হাজার ৫৬৯ জন গ্রেপ্তার এবং ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়েছিল।তবে বিশেষ অভিযানের সাফল্য বিচার করতে হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা দেখলে হবে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন প্রকৃত অপরাধী, কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়েছে, কতজনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি কতটা কমেছে—এসব সূচকও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কারণ ব্যাপক গ্রেপ্তার সাময়িকভাবে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ কমাতে হলে অপরাধের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের ওপর হামলা, জনবল সংকট, তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলে অপরাধীরা সুযোগ পেতে পারে।আরও পড়ুন : পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নরসিংদীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিলআগস্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-জুলাই সময়ে সাতটি প্রধান অপরাধের আওতায় ২১ হাজার ৭৫৬টি মামলা হয়েছে, যা আগের ছয় মাসের ২১ হাজার ২২৮টির তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা সংখ্যা পুরো পরিস্থিতির চিত্র দেয় না কারণ অনেক ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন না কিংবা অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ হিসেবে থেকে যেতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সদরদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র এবং ডিজিটাল প্রতারণাকে বড় আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধাপের একটি রোডম্যাপের সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে দ্রুত পুলিশি সাড়া, গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে যে অপরাধ মোকাবিলায় শুধু ‘বিশেষ অভিযান’ নয়, বরং পুলিশের নিয়মিত কাঠামোকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার যদি নতুন করে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ বা পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রমাণভিত্তিক অপরাধ দমন অভিযান হিসেবে পরিচালিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযানের আওতায় থাকতে পারে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, অপহরণ, মাদক, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ দখলবাজি, চোরাচালান এবং মব সহিংসতার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা। তবে অভিযানের ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া, প্রমাণ সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির হলে তার প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে।আরও পড়ুন :অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেজ খুলেই কথিত ‘সাংবাদিক’! রাজনৈতিক বিরোধ যখন স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা, পরিবহন, বাজার, জমি কিংবা অন্যান্য সম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তখন অপরাধীচক্রও সেই সুযোগ নিতে পারে।২০২৬ সালের প্রথমার্ধের রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে ওধিকার-এর প্রতিবেদনে ৪১ জন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পক্ষকে সামগ্রিকভাবে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করার আগে প্রতিটি ঘটনার পৃথক তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা জরুরি। রাজধানীর ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার বাসিন্দা, জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক কিংবা সাধারণ চাকরিজীবী—সবার কাছেই নিরাপত্তা একটি মৌলিক প্রত্যাশা। চাঁদাবাজির ভয়, জমি দখলের আশঙ্কা, সংঘর্ষে আটকে পড়া কিংবা হঠাৎ মব হামলার আতঙ্ক জনজীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঢাকায় মাত্র তিন দিনে জমি বিরোধ, দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের চারটি ঘটনার কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি ঘটনায় দলবদ্ধভাবে লোকজন বিভিন্ন সম্পত্তিতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। কোথাও ভারী যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, জমি ও বাড়ি দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।আরও পড়ুন :তৃণমূলের কাণ্ডারী বকুল: ফরিদপুর বিএনপিতে ফের নেতৃত্বের আশাবাদএমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—দেশের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে কি আরও কঠোর ও সমন্বিত কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে? আর সেই সম্ভাব্য অভিযানের নাম কি হতে পারে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’? তবে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ নামে বর্তমানে কোনো সরকারি অভিযান ঘোষণা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে নামটি একটি সম্ভাব্য বিশেষ অভিযানের ধারণা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।অপরাধের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে সরকারি বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং হত্যা, অপহরণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো কয়েকটি বড় অপরাধ কমেছে।অন্যদিকে পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অপরাধের তথ্য পর্যালোচনা করে সহিংস অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র এবং ডিজিটাল প্রতারণাকে বড় আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ সামগ্রিক পরিস্থিতির কিছু সূচকে উন্নতি থাকলেও অপরাধের নতুন ধরন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেছেন কি না, তার বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের আইন ও আদালতের। কিন্তু দলবদ্ধভাবে কাউকে আক্রমণ, মারধর কিংবা শাস্তি দেওয়ার ঘটনা আইনের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশের সাম্প্রতিক পর্যালোচনাতেও মব হামলা, জমি বিরোধ, রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারকে সহিংসতার বিভিন্ন কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মব তৈরি করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভয় সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।আরও পড়ুন : Divine Group ঘিরে এবার মামলার হিসাবএদিকে সরকার বলছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সন্ত্রাসী, সশস্ত্র অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, এসব অপরাধীর তালিকা পুলিশ নিয়মিত হালনাগাদ করছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ প্রয়োজন রয়েছে। এর আওতায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, অপহরণ, দখলবাজি এবং মব সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। তবে এমন কোনো অভিযান হলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট হবে না। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করা, ঘটনার পেছনের সংগঠিত কাঠামো চিহ্নিত করা এবং মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর করার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো একটি অভিযান সাময়িকভাবে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে অপরাধের মূল কাঠামো ও পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়গুলোও সামনে আনতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাবও আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। ২৯ সেপ্টেম্বর আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের অপরাধী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনো অপরাধীকে সুরক্ষা না দেয়।আরও পড়ুন : বনানীতে গেস্ট হাউজ-স্পা, ওসির ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্নএ ধরনের বক্তব্যের বাস্তব প্রয়োগই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী কারও সঙ্গে যোগাযোগের কারণে কোনো অপরাধী আইনের বাইরে থেকে গেলে সাধারণ মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কমিটি অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দাভিত্তিক পুলিশিং, দ্রুত পুলিশি সাড়া, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কমিটি দীর্ঘমেয়াদে সিসিটিভি, উন্নত তদন্তব্যবস্থা, অপরাধের তথ্যভান্ডার এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে। এ থেকে স্পষ্ট যে অপরাধ দমনের প্রশ্নটি শুধু একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে সরকারের দাবি অনুযায়ী সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি মূল্যায়নে শুধু বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা নয়, সরকারি পরিসংখ্যান, মামলা, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং জনগণের নিরাপত্তাবোধ সবকিছুকে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। যদি সরকার ‘অপারেশন ক্লিন হান্ট’ নামে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, আরও পড়ুন :চট্রগ্রাম গোয়ালপাড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী "আকলিমার" মাদকের হাটতাহলে সেটি যেন হয় অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর উদ্যোগ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান বা প্রভাব বিবেচনা না করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।সবশেষে প্রশ্নটি শুধু নতুন একটি অভিযানের নাম নিয়ে নয়। মূল প্রশ্ন হলো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, অপহরণ ও মব সহিংসতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে। অপারেশন ক্লিন হান্ট’ হোক কিংবা অন্য কোনো উদ্যোগ—সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই, দেশে এমন একটি পরিবেশ ফিরে আসুক যেখানে অপরাধীচক্রের পেশিশক্তির চেয়ে আইনের শক্তি বেশি কার্যকর হবে এবং মানুষ নিজের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপদ বোধ করবে।