মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক Sholakia Eidgah ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত। শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় এবারের ঈদ জামাত। এটি ছিল শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত।আরও পড়ুন, টোল আদায় ৩ কোটি ৮২ লাখ, তবু দুর্ভোগ কমেনি যাত্রীদেরপ্রবল বর্ষণের মধ্যেও হাজার হাজার মুসল্লি খোলা মাঠে ভিজেই নামাজ আদায় করেন। অনেকেই ছাতা, রেইনকোট বা পলিথিন ব্যবহার করলেও বেশিরভাগ মুসল্লিকে বৃষ্টির মধ্যেই জামাতে অংশ নিতে দেখা যায়। জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।শতবর্ষের ঐতিহ্য অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী জামাতের ১০ মিনিট আগে তিনটি, ৫ মিনিট আগে দুটি এবং ১ মিনিট আগে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। নামাজ ও খুতবা শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।আরও পড়ুন, সংবাদের প্রতিবাদঈদের জামাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা শোলাকিয়ায় আসেন। মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করে। একটি ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে এবং অন্যটি ভৈরব থেকে মুসল্লিদের নিয়ে আসে। জামাত শেষে ট্রেন দুটি আবার নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়।শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মারুফ জানান, এবারের জামাতে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ হাজার মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ১৮২৮ সালে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর নরসুন্দা নদীর তীরে এই ঈদগাহ মাঠ প্রতিষ্ঠা করেন।আরও পড়ুন, কসবায় পুকুর থেকে উদ্ধার অজ্ঞাত লাশ, নিখোঁজ সিএনজি চালক হোসেন মিয়ার বলে ধারণাপ্রথম জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেওয়ায় এর নাম হয়েছিল ‘সোয়া লাখি মাঠ’, যা পরে উচ্চারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়। বর্তমানে প্রায় সাত একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে দুই লাখের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।