দেশের অর্থনীতিতে ধীরগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো—বিবিএসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে। প্রথমবারের মতো শিল্প খাত ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে পড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ২ দশমিক ২২ শতাংশে।সোমবার প্রকাশিত বিবিএসের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ের ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশে। আর তৃতীয় প্রান্তিকে আরও কমে ২ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে।আরও পড়ুন, ভুয়া ঋণের প্রলোভন, এডিবির পরিচয়ে প্রতারণা নিয়ে জরুরি সতর্কবার্তাসবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিল্প খাতে। প্রথম প্রান্তিকে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ, সেখানে তৃতীয় প্রান্তিকে তা কমে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশে নেমেছে। একই সঙ্গে কৃষি ও সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধির হার কমেছে।বিবিএসের হিসাবে, চলতি মূল্যে দেশের অর্থনীতির আকার বেড়ে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছালেও উৎপাদনের গতি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী হয়েছে।অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন ব্যয় কমানো, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গতি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।