সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মামলার শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আদালতপাড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তার বিরুদ্ধে করা দুই দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।আদালতের আদেশ শেষে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে যখন নামানো হয়, তখন তার আইনজীবীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়াও কিছু বিএনপি পন্থি আইনজীবীও আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শ্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহসিন উদ্দিন। রিমান্ড আবেদনের পক্ষে ঢাকার মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী শুনানি করেন।আরও পড়ুন, ২০২৬-২৭ সালের ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভোটের তারিখ ঘোষণাশুনানিতে তিনি বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরী চব্বিশের ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন। তিনি এই মামলার তিন নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মামুন রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার একটি নিরপেক্ষ পদ। তিনি নিজ থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন এবং তিনি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ। তিনি একজন আইনজীবীও। এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনার দীর্ঘ ১০ মাস পর এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় তার জামিন হওয়া উচিত।শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদনে নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এদিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাকে পুরান ঢাকার সিএমএম আদালতে আনা হয়। তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা সোয়া ৩টার দিকে শুনানির জন্য তাকে এজলাসে তোলা হয়।আরও পড়ুন, বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ড: ৪৬ জন নিহতের ঘটনায় ২২ রেস্টুরেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রমামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই বিদেশে পালিয়ে যান, অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।