ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের সুযোগে বিপুল মুনাফা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। গত ছয় মাসে দেশটির ৫১টি বড় জ্বালানি কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি মুনাফা করেছে। অথচ যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের। নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এসব কোম্পানির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও কম। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এতে তেল উৎপাদনকারী ও পরিশোধনকারী উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এক্সনমবিল ও শেভরনও হাজার কোটি ডলারের বেশি মুনাফা করেছে। আরও পড়ুন,নেতানিয়াহু বিরোধী জোটের সঙ্গে সমঝোতায় আরব দলগুলোবিশেষ করে ভ্যালেরো এনার্জির তৃতীয় প্রান্তিকের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় গুণের বেশি বেড়ে ৬৮৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ফিলিপস ৬৬ জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের নিট আয় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ৫৬২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ক্লাইমেট সলিউশনস ল্যাবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা পেট্রল ও ডিজেল কিনতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছেন। পরিবারপ্রতি এই বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৫০ ডলারের বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বাড়িয়েছে। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক সুবিধা একদিকে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর কাছে কেন্দ্রীভূত হলেও এর মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক সুফল কারা ভোগ করছে আর এর প্রকৃত মূল্যই বা বহন করছে কারা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।