দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রনি আর নেই

লাইফ সাপোর্টে রেখেও বাঁচানো গেল না জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাবি ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রনিকে। অগ্নিদগ্ধ রনির শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তার শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হওয়ায় হার্ট, কিডনি ও ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়েছিল। শেষ দিকে রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দ্বগ্ধ হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রনির বড় ভাই মো. মাসুদ রানা। রনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।এর আগে, গতকাল রবিবার রাতে একই ঘটনায় দগ্ধ অভিযুক্ত যুবক আব্দুস সোবহান রায়হানও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দগ্ধ সাইফুলের বন্ধুরা জানান, সাইফুল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন। তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলা উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই থাকতেন। নিহতের ভাই মাসুদ রানা জানান, আশুলিয়ার ইসলামনগর ৬ নম্বর গলির একটি বাড়ির ২য় তলাতে থাকেন সাইফুলের বন্ধু রায়হান ও তার ভাই রাহাত। সেই বাসায় রায়হান ও তার আপন ভাই রাহাতের মধ্যে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে ঝামেলা চলছিল। সেই বিরোধ মেটাতে গিয়েছিলেন সাইফুল। সেখানে এক পর্যায়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া লেগে গেলে রায়হান পেট্রল ঢেলে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। আরও পড়ুন, শহীদ মিনারে আজ প্রথমবারের জাতীয় কবিতা উৎসবের আয়োজনমুহূর্তেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে সেই আগুনে পুড়ে যায় দুই ভাই রায়হান, রাহাত ও সাইফুল, হাসিনুর। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে মধ্য রাতে সাইফুল ও হাসিনুরকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। আর দুই ভাইকে মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় এক মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবহান রায়হান পারিবারিক কলহের জেরে নিজের ঘরে অকটেন ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রনিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রতিবেশী মানবিক কারণে তাকে বাধা দিতে সেই ঘরে প্রবেশ করেন। তারা রায়হানকে শান্ত করার চেষ্টা করতেই তিনি লাইটার দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম রনি আর নেই