মাদকবিরোধী যুদ্ধে কঠোর সরকার: কর্মকর্তাদের অস্ত্র, গঠন হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র প্রদান এবং মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। বিশেষ করে সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই তা সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।তিনি জানান, মাদকচক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অস্ত্র না থাকায় কার্যকর অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন, দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও চালু ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসাএছাড়া সারাদেশে বিপুলসংখ্যক মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মামলা ঝুলে রয়েছে। এই বিচারিক জট নিরসনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে প্রচলিত আদালতেও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে।অন্যদিকে, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকেও উৎসাহিত করতে ৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইন সংশোধন, দ্রুত বিচার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে মাদকের ভয়াবহতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।