বান্দরবানে লামায় পাহাড়ধসে নিহত ৫, বন্যায় পানিবন্দী ৩৫ হাজার পরিবার
লামা উপজেলা প্রশাসন মো: মঈন উদ্দিন বলেন, ‘পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।’টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে পাহাড়ধসে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারী ইউপি সদস্যসহ দুইজন আহত হয়েছেন।একইসাথে লামা উপজেলা সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং চার হাজারের বেশি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।বুধবার (৮ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে, পাহাড় ধসে দুইটি পরিবারের সদস্যরা মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর দমকল বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার ও মাটি অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।নিহতরা হলেন মো: ইউনুস, তার স্ত্রী রানু আক্তার, তাদের ছেলে মো: সোলেমান, জুয়েল এবং জুয়েলের স্ত্রী কুলছুমা আক্তার। এ ঘটনায় এক নারী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ দু’জন আহত হয়েছেন।আরও পড়ুন, নগরকান্দায় পিআইওর বিরুদ্ধে প্রকল্পে উৎকোচ, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগএদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।লামা উপজেলা তথ্য অনুযায়ী, , মাতামুহুরী ও নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লামার ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। লামার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবান সদর থেকে রোয়াংছড়ি ও আলীকদম উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শহরের ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাড়ে তিন হাজারের বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।জেলা প্রশাসক মো: সামিউল ফেরদৌস বলেন, ‘পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।’