রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, স্থাপনা ভাঙচুর হলে বা কেউ হামলার শিকার হলে সরকার দুঃখিত। তিনি বলেন, নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।সাম্প্রতিক দুই ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আরও পড়ুন,জাসদ কার্যালয় ঘেরাও ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ জিএম কাদেরেরতবে এসব ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী বা নেপথ্যের ব্যক্তিদের সবাই এখনো আইনের আওতায় আসেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তের বিষয় এবং সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। সরকারও জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় জমি ও স্থাপনা দখলের চেষ্টা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে।সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের পৃথক তদন্তের ফলাফলই ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ সংঘটিত হলে তার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্ত কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে এগোয় এবং অভিযোগে যাদের নাম আসছে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।