ভর্তুকি মূল্যে কোরবানির মাংস বিক্রির উদ্যোগ ইরানের
অর্থনৈতিক সংকট ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভর্তুকি মূল্যে কোরবানির মাংস বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ইরান সরকার। দেশটিতে মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।আরও পড়ুন, যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরাইলকে জাতিসংঘের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ইরান-এ ঈদুল আজহা মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলক সীমিত পরিসরে উদযাপিত হলেও দেশজুড়ে মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত জবাই ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালিত হয়। এসব কেন্দ্রে ইসলামি শরিয়াহ মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু জবাইয়ের পাশাপাশি কম মূল্যে মাংস সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।দেশটির বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জটিলতা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য লাল মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।আরও পড়ুন, ৮৮ দিনের পর ইরানে সীমিত ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে এলোতেহরান সিটি কর্পোরেশন-এর একটি সংস্থা জানায়, নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে কোরবানির মাংস প্রতি কেজি ৭৪ লাখ রিয়াল বা প্রায় ৪ দশমিক ৩০ ডলারে বিক্রি করা হবে। অথচ খোলা বাজারে একই পরিমাণ মাংসের দাম এলাকা ও মানভেদে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত হতে পারে।বর্তমানে ইরানে একজন শ্রমিকের মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি ১০০ ডলারেরও কম। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মাংস কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তেহরানের এক নারী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-কে জানান, এখন তিন সপ্তাহে একবার মাংস কিনতে হয়। অনেক পরিবার লাল মাংসের পরিবর্তে মুরগি, ডিম ও ডালজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভর করছে, যদিও এসব পণ্যের দামও বেড়েছে।আরও পড়ুন, ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা, পাটখেত থেকে উদ্ধার আরও ২.২৪ কোটি
এদিকে মাংস প্রক্রিয়াজাত শিল্পের প্রতিনিধি মাসুদ রাসুলি জানান, গত বছরের তুলনায় দেশে লাল মাংসের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। তার মতে, স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই এখন বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে।