কুষ্টিয়ায় স্কুলকক্ষে অচেতন ছাত্রী উদ্ধার, ধর্ষণের আলামত
কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় রাতের বেলা নিজ বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ছাত্রী গুরুতর অসুস্থ। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। মেয়েটি ভয় পেয়েছে এবং আতঙ্কগ্রস্ত। হাসপাতাল থেকে জানা গেছে যে, উদ্ধারের সময় তার মুখে স্কচটেপ এবং হাত-পা বাঁধা ছিল। চিকিৎসকরা বলছেন, ওই ছাত্রীর শরীরে ধর্ষণের কিছু আলামত রয়েছে।ছাত্রীটির মামা বলেন, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। সকালে বাড়ি থেকে আমার ভাগিনা বের হয়। সবাই বাড়ি চলে আসে। বিকেল ৩টার পর বোনের মেয়ে বাড়ি না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজার পর তাকে না পেয়ে রাতে বিদ্যালয়ের দপ্তরি হামিদুল ইসলামের কাছে যাই। দপ্তরি বলে, বিদ্যালয়ে কেউ নেই। বিদ্যালয় এখন খোলা যাবে না। পরে প্রধান শিক্ষকের হস্তক্ষেপে স্থানীয়রা চাবি নিয়ে গিয়ে বিদ্যালয় খুলে দেখেন তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে।আরও পড়ুন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে রূপগঞ্জে অটোরিকশা চালক নিহততার হাত ও পা বাঁধা এবং মুখে স্কচটেপ লাগানো। তার বই খাতা ক্লাসে পড়ে ছিল। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর মামা আরও বলেন, গভীর রাতে আমি ও আমার স্ত্রী হাসপাতালে ছিলাম। মেয়ে কোনো কিছু বলেনি। শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। তার কপালে একটি আঁচড়ের দাগ রয়েছে।শিক্ষার্থীর মা বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন। মেয়ে খুবই অসুস্থ। সে কিছু বলতে চাচ্ছে না। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি গাইনি ওয়ার্ডে বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে আছে। লোকজনের জটলা রয়েছে। পরে তাকে একটি বেড দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমিও সেখানে যাই। খোঁজ করতে গিয়ে দপ্তরি তৃতীয় তলায় একটি স্থানে মেয়েটিকে দেখতে পায়।আরও পড়ুন, গুলি করে ২ লাখ টাকা ছিনতাই ভিডিও ভাইরালএ বিষয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ভর্তির পর আমাদের গাইনি ওয়ার্ডের নারী চিকিৎসকরা মেয়েটিকে পরীক্ষা করেছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। মেয়েটি খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তাকে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সে কিছু বলতে চাচ্ছে না। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি থানায়।