দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

বিশ্বকাপ দেখতে বাড়ি বিক্রি করছেন ইংলিশ সুপারফ্যান

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে কতটা দূর নিয়ে যেতে পারে—তারই এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করেছেন ইংল্যান্ডের এক প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী।৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অ্যান্ডি মিলনে, যিনি ফুটবল দুনিয়ায় ‘মিলন’ নামেও পরিচিত, আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য নিজের দ্বিতীয় বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আরও পড়ুন, বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের স্কোয়াড চূড়ান্ততিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপের নিবেদিত দর্শক। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তার জার্সি পরা এবং হাতে ট্রফির প্রতিকৃতি নিয়ে উচ্ছ্বাসের ছবি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। এবারও সেই আবেগ থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বর্তমানে থাইল্যান্ডে বসবাসরত এই ইংলিশ সমর্থক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে সাত সপ্তাহ অবস্থান করে তিনি ইংল্যান্ডের সব ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে দেখতে চান।আরও পড়ুন, নতুন চোটে মাঠের বাইরে নেইমার, বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়েও শঙ্কাতিনি বলেন, স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি চেশায়ারের নর্থউইচ এলাকায় থাকা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড মূল্যের বাড়িটি বিক্রি করছেন। অ্যান্ডি মিলনে জানান, ১৯৮২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তিনি পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ৯টি বিশ্বকাপ সরাসরি মাঠে বসে দেখেছেন।আরও পড়ুন, মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশখরচ কমাতে তিনি পরিকল্পনা করেছেন মেক্সিকো, ডালাস ও ভ্যাঙ্কুভারে বন্ধুদের বাসায় থাকা এবং ‘কাউচ সার্ফিং’-এর মাধ্যমে অবস্থান করার। এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে। ইউরোপভিত্তিক সংগঠন ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও করেছে।বিশ্বকাপ টিকিটের খরচ সর্বনিম্ন ক্যাটাগরিতে হাজার হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মিলনের এই ঘটনা একদিকে যেমন আবেগ ও ভালোবাসার উদাহরণ, অন্যদিকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক বাস্তবতাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশ্বকাপ দেখতে বাড়ি বিক্রি করছেন ইংলিশ সুপারফ্যান