মাদারগঞ্জে সুগনগরী বাঁধে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
জামালপুরের মাদারগঞ্জ একটি পাকা সেতুর অভাবে উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের সুগনগরী বাঁধের মাথা এলাকায় ১৫ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্র“তি দিলেও, আজও এই স্থানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০০ মিটার দীর্ঘ নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৮-১৯৯০ সালের ভয়াবহ বন্যায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে নাংলা, পশ্চিম সুখনগরী, নাদাগাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যমুনার শাখা নদীতে পরিণত হওয়া এই অংশটি পার হতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো তৈরি করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই সাঁকোই তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম।স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষাকালে সাঁকোটি পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীরা। গর্ভবতী নারী বা মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স বা কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। আর ও পড়ুন, ফজরের নামাজ শেষে মসজিদে ঢুকে গুলি, খুলনায় দুই মুসল্লি আশঙ্কাজনকফলে বাধ্য হয়েই কাঁধে বা ভ্যানে করে রোগীদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে জেলা সদরে পৌঁছাতে হয়।সুখনগরী গ্রামের বাসিন্দা তোতা মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘বর্ষাকাল এলে আমাদের কষ্টের শেষ থাকে না। সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় ছেলে-মেয়েরা বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে যায়। জরুরি রোগী নিয়ে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়।’স্থানীয় কৃষক আজিজুল বলেন, ‘মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সাঁকোটি। উৎপাদিত ধান বা সবজি বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে গেলে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ দিতে হয়, যার কারণে আমরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’এ বিষয়ে বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘বাঁধের মাথায় একটি সেতুর দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জনদুর্ভোগের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।’স্থানীয়রা দ্রুত সুগনগরী বাঁধের মাথায় একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জন্য মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ জামালপুর-৩ (১৪০ নং) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো.মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এর ও স্থানীয় প্রশাসন ,সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।