অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই অপরাধী অপরাধীই : মীর হেলাল
অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা দলীয় পরিচয় বিবেচনায় না এনে অপরাধের প্রমাণের ভিত্তিতে প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও চট্টগ্রাম পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন।শনিবার চট্টগ্রামের হালিশহর সিভিক সেন্টারে জেলা পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অপরাধীর কোনো দল নেই, গোত্র নেই, বর্ণ নেই। অপরাধী মানেই অপরাধী।” কারও বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পরিচয় কিংবা প্রভাবের দিকে না তাকিয়ে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। একজন সমাজকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, “ইনশাআল্লাহ, চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত, অস্ত্রবাজমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত করে ছাড়ব।” এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মাদক নির্মূলের দায়িত্ব কেবল পুলিশ, আইনজীবী কিংবা বিচার বিভাগের ওপর ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও সর্বজনীন সামাজিক উদ্যোগ।আরও পড়ুন, মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুষের অভিযোগ, টাকা কম দেওয়ায় চাকরি গেল কর্মীরপ্রতিমন্ত্রী বলেন, পুলিশ একা মাদক নির্মূল করতে পারবে না, আইনজীবী কিংবা বিচারকদের পক্ষেও এককভাবে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ থেকে প্রশাসন—সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হবে মাদক নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পথ।চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নতুন কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে মীর হেলাল উদ্দীন জানান, সেখানে মাদক ও মাদকসংক্রান্ত মামলার আসামিদের জন্য পৃথক কারাগার বা আলাদা বন্দোবস্ত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।তিনি বলেন, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সাধারণ অপরাধীদের সঙ্গে একই পরিবেশে রাখার ফলে অপরাধের নেটওয়ার্ক বিস্তার কিংবা নতুন যোগাযোগ তৈরির ঝুঁকি থাকে। পৃথক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাদকচক্রের সঙ্গে সাধারণ বন্দিদের সংস্পর্শ কমানো সম্ভব হতে পারে।সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম।এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজের প্রতিনিধিরা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।মাদকবিরোধী এ সমাবেশে শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীও অংশ নেন।বক্তারা মাদকের বিস্তারকে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিরোধমূলক সচেতনতা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি মাদকবিরোধী র্যালি বের করা হয়।