প্রহলাদপুরকে দেশের প্রথম শ্রেণির ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চাই’
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলী হোসাইন। তিনি নির্বাচিত হলে প্রহলাদপুর ইউনিয়নকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের একটি প্রথম শ্রেণির ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান।বুধবার দুপুরে শ্রীপুর থানা মোড়ের জিন্নাত সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জি-নিউজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।আলী হোসাইন বলেন, “প্রহলাদপুর ইউনিয়নকে একটি নিরাপদ, শিক্ষিত, কর্মসংস্থানমুখী ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।”মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানচেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আলী হোসাইন।তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করেই মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।শিক্ষা ও অবকাঠামোয় গুরুত্বপ্রহলাদপুর ইউনিয়নের প্রতিটি স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।আরও পড়ুন, পাঁচবিবিতে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৫১ কেজি কষ্টি পাথরের খণ্ড উদ্ধারতার ভাষায়, “একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেখানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো পরিবেশ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে।”কৃষির পাশাপাশি শিল্পায়নের পরিকল্পনাপ্রহলাদপুর ইউনিয়নের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে আলী হোসাইন বলেন, কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।পাশাপাশি ইউনিয়নটিকে একটি শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, পরিকল্পিত শিল্পায়ন হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি প্রহলাদপুর চাই, যেখানে কৃষি থাকবে, শিল্প থাকবে, শিক্ষার পরিবেশ থাকবে এবং মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে প্রহলাদপুরকে দেশের একটি প্রথম শ্রেণির ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারদরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী হোসাইন।তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও জনবান্ধব করতে হবে। সরকারি ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা পান, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।“ইউনিয়ন পরিষদ হবে সাধারণ মানুষের সেবার জায়গা।আর ও পড়ুন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে নরসিংদীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ধনী-গরিব, দল-মত নির্বিশেষে সবাই যেন প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পরিষদে এসে সেবা পান, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই,” বলেন তিনি।শিক্ষা ও কর্মজীবনআলী হোসাইন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার দমদমা গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত ইদ্রিস আলী পালোয়ান এবং মাতার নাম মোছা. খোদেজা।তিনি ১৯৯৯ সালে দমদমা মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে দাখিল, ২০০১ সালে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে আলিম, ২০০৩ সালে সালনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে ফাজিল এবং ২০০৫ সালে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে কামিল সম্পন্ন করেন। ২০০৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন বলে জানান তিনি।পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকার সেনানিবাসের শহীদ উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে কামরাডাঙ্গামফ ফাজিল ডিগ্রি মহিলা মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রশিবিরের হল শাখায় অফিস সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রহলাদপুর ইউনিয়ন শাখার নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।‘জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাই’চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান আলী হোসাইন।তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব হলো মানুষের কথা শোনা এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করা। জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করেই ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। আমার লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও মানবিক প্রহলাদপুর গড়ে তোলা।”