দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

খামারিতে লোকসান, বাজারে আগুন মুরগির দামে ‘মধ্যস্বত্বভোগীর’ কারসাজির অভিযোগ

দেশের পোলট্রি খাতে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক বৈপরীত্য। খামারিরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না, অথচ বাজারে সেই মুরগিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।খামার পর্যায়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ প্রায় ১৪৫ টাকা হলেও ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ২২০ টাকারও বেশি দামে।অন্যদিকে, সোনালি মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩০ টাকা কেজি, আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়—যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ছিল প্রায় ৬৫০ টাকা।খামারিরা বলছেন, খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনছেন হাজারো প্রান্তিক খামারি।ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মুরগির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় আমিষ।বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণেই খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে। আর পাইকাররা দুষছেন পরিবহন খরচ ও জ্বালানি সংকটকে।এদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বলছে, বাজারে অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান চলছে এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দেশের পোলট্রি খাতে একদিকে খামারিদের লোকসান, অন্যদিকে ভোক্তাদের চড়া দামে কেনার বাধ্যবাধকতা—এই দ্বিমুখী সংকটে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি।খামার পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ যেখানে প্রায় ১৪৫ টাকা, সেখানে পাইকারিতে তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে আরো পড়ুন , বৈশাখ সামনে রেখে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া১৪৮ টাকার মধ্যে। কিন্তু খুচরা বাজারে সেই একই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকার বেশি দামে।একইভাবে, সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৪৩০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। যা অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।খামারিরা বলছেন, মুরগির খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ডিম উৎপাদনেও খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।অন্যদিকে, ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, বাজারে কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য প্রোটিনের প্রধান উৎস মুরগি ক্রমেই অপ্রাপ্য হয়ে উঠছে।পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দাম বাড়ছে।

খামারিতে লোকসান, বাজারে আগুন মুরগির দামে ‘মধ্যস্বত্বভোগীর’ কারসাজির অভিযোগ