পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় অভিযোগ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক সাজিদ হাসান। এ ঘটনায় তিনি মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন। এজাহারে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাংবাদিক সাজিদ হাসান একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান এবং দৈনিক বাংলার প্রতিচ্ছবি পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালন করতে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় ভিডিও চিত্র ধারণ করতে যান।অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তার ভিডিও ধারণে বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।আরও পড়ুন, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল রাবি, রেললাইন দখলে বিক্ষোভএজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা তার ব্যবহৃত ভিডিও ক্যামেরা মাটিতে আছড়ে ফেলে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে এবং পকেটে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরে আহত অবস্থায় তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মিঠাপুকুর থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। এজাহারের সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র, পেশাগত পরিচয়পত্রের কপি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।সাংবাদিক সাজিদ হাসান বলেন, "গণমাধ্যমকর্মীরা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর নয়, সংবাদপেশার স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ সচেতন মহল দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তবে এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। মিঠাপুকুর অফিসার ইনচার্জ জনাব এরশাদ আহমেদ বলেন তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।