দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

দেবহাটায় শামীম হত্যা: প্রধান আসামি আটকের পর আর কোনো গ্রেপ্তার নেই

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নিয়ে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দেবহাটার বড় শান্তা গ্রামে নিহতের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে ঘটনার পেছনের বিভিন্ন তথ্য ও স্বজনদের ক্ষোভের চিত্র উঠে আসে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদুজ্জামানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক অডিও রেকর্ড তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে একটি দল তার বাড়িতে চড়াও হয় এবং ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে কুলিয়া বাজারের ক্লিনিক ও সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াহেদুজ্জামানের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী গ্রেপ্তার হন।আরোও পড়ুন,টাকা ছাড়াই পারাপার জনস্বার্থে কাঠের সেতু বানিয়েমামলার বাদী ও নিহতের ভাই আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আরও অনেকের নাম ও পরিচয় তাঁরা জানতে পেরেছেন এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে তাদের শনাক্তও করা গেছে। অথচ গত ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন কোনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় আসামিরা পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের পক্ষে নানা অপপ্রচার চালিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভিডিও ফুটেজ যাচাই, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দেবহাটায় শামীম হত্যা: প্রধান আসামি আটকের পর আর কোনো গ্রেপ্তার নেই