ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একসময় অবহেলায় পড়ে থাকা হোগলাপাতা এখন হয়ে উঠেছে বহু পরিবারের জীবিকার অবলম্বন। গ্রামের উঠান, বারান্দা কিংবা ঘরের এক কোণে বসেই নারীরা তৈরি করছেন ঝুড়ি, বাস্কেট, টিস্যু বক্স, ফুলের টব, ফ্লোরমেটসহ নানা ধরনের পরিবেশবান্ধব কারুপণ্য।ভালুকজান, কৈয়ারচালা, কুশমাইল ও বরুকা—এই চার গ্রামের চিত্র এখন বদলে গেছে। স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, উপজেলার এক হাজারের বেশি পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তৈরি হচ্ছে প্রায় ১২০ ধরনের পণ্য। এসব পণ্যের বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নারীদের জীবনে। সংসারের কাজের পাশাপাশি হোগলাপাতার পণ্য তৈরি করে আয় করছেন তাঁরা। সেই অর্থ দিয়ে সংসারের খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ও বহন করছেন অনেকে।পণ্যের ধরন ও আকার অনুযায়ী একজন নারী শ্রমিক ৩৫ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান।আরও পড়ুন, প্রহলাদপুরকে দেশের প্রথম শ্রেণির ইউনিয়ন হিসেবে গড়তে চাই’ফুলবাড়িয়ায় এই শিল্পের বিকাশে কাজ করছে বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠান। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় নারী-পুরুষদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্যোক্তাও।উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দা, যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সহায়তার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।তাঁদের প্রত্যাশা, সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাবে।ফুলবাড়িয়ার গ্রামের উঠানে তৈরি হওয়া হোগলাপাতার একটি ঝুড়ি হয়তো পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরের কোনো দেশে। আর সেই পণ্যের সঙ্গে বিদেশে পৌঁছে যাচ্ছে একজন গ্রামীণ নারীর শ্রম, স্বপ্ন আর স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।