খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাখো মানুষের ঢলে জমজমাট বৈশাখী মেলা
নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে, যা দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক সমাবেশে পরিণত হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে থাকে শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি পুরো ক্যাম্পাসে এক বর্ণিল আবহ তৈরি করে। 'এসো হে বৈশাখ' ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে, সঙ্গে ছিল ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সুর।আরও পড়ুন, ভিকারুননিসায় ব্লেন্ডেড শিক্ষা চালু, অনলাইন-সশরীর ক্লাস একসঙ্গেমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বর প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রায় অংশ নেয় বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। শোভাযাত্রায় বাঘ, পাখি, পেঁচা, মুখোশ এবং গ্রামীণ জীবনের নানা প্রতীক ছিল। মেলায় ৩০ টিরও বেশি স্টল ছিল, যা পরিচালনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি ডিসিপ্লিন নিজস্ব উদ্যোগে স্টল সাজিয়ে তোলে, যেখানে দেশীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। পিঠাপুলি, জিলাপি, ফুচকা ও চটপটির পাশাপাশি নকশিকাঁথা, পাটের তৈরি সামগ্রী এবং মাটির তৈরি শোপিস সব মিলিয়ে এক গ্রামীণ মেলার আবহ তৈরি হয়। নেপাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের স্টলও ছিল। স্টলগুলোর পাশাপাশি মেলায় শিশুদের জন্যও বিশেষ আকর্ষণ ছিল। সন্ধ্যার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে লোকসংগীত পরিবেশনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।আরও পড়ুন, যবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীরনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক দপ্তর ও নিরাপত্তা প্রহরীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল। খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, “এত বড় আয়োজন এবং মানুষের অংশগ্রহণ সত্যিই অভিভূত করার মতো। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী মেলা দক্ষিণ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাণবন্ত আয়োজন।" বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই আয়োজন আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।" মেলায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য আনন্দের দিন। এদিনে আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি বিশেষ সুযোগ।" সন্ধ্যার পর পুরো ক্যাম্পাস আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে, যা মেলার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষজন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন।