দৈনিক সংবাদ দিগন্ত

ধারালো অস্ত্রের হামলায় দুই জেলায় তিনজন আহত

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। পিরোজপুর ও টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ ও মাগুরার শ্রীপুরে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছে ১৫ জন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় ৩৫টি বাড়িঘর। স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পঠানো খবর-পিরোজপুর ও ইন্দুরকানী : বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত ১১টার দিকে পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং সাবেক ইউপ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মল্লিক নাছির।আরো পড়ুন , আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৩০ পরিবার নিঃস্ব তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। অপর আহত ব্যক্তি তার ভাতিজা রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু, যিনি শংকরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আহত রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক নিপু জানান, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ৮-১০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গোপালগঞ্জ : টুঙ্গিপাড়ায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জের ধরে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত শিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার বিকালে উপজেলার সরদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি কর্মী দেলোয়ার শেখ, তার স্ত্রী আমেনা বেগম ও ভাতিজা কাউসার শেখসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তার মধ্যে তিনজন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, সরেজমিন পুলিশ তদন্ত করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাগুরা : শ্রীপুর উপজেলার চাকদাহ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৩৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : ঢাকার নবাবগঞ্জের চূড়াইনে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলাকালে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সদ্য শেষ হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় শামীম রেজা ও বাবু গ্রুপের মধ্যে বিবাদ হয়। বিবাদ সমাধানের জন্য রোববার এলাকার নেতারা দুই পক্ষ নিয়ে চুড়াইন ইউনিয়ন পরিষদে বসেন। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ৪-৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ পায় এলাকাবাসী। ভীতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় এ সময় কেউ এগিয়ে আসেনি। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আগলার চরচরিয়া এলাকার আহাদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার মামাতো ভাই রিফাতকে দক্ষিণ চূড়াইনের শামীম রেজার নেতৃত্বে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। শামীম রেজা জানান, গেল নির্বাচনে স্থানীয় বাবু ও মিলন বিএনপির সঙ্গে বেইমানি করেছে। নির্বাচনে তাদের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে আমরা বসেছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল সমাধানের।

ধারালো অস্ত্রের হামলায় দুই জেলায় তিনজন আহত