কুরবানির আগে নখ-চুল না কাটার নির্দেশ কেন? জানুন ইসলামের দিকনির্দেশনা
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা মানেই শুধু কুরবানির প্রস্তুতি নয়, বরং একজন মুমিনের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বিশেষ সময়ও শুরু। এই সময়কে ঘিরে মুসলমানদের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়—কুরবানির আগে নখ, চুল কিংবা শরীরের পশম কাটা যাবে কি?এ বিষয়ে হাদিস শরিফে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত উম্মে সালামা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানি দেওয়ার ইচ্ছা রাখেন, জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি যেন চুল ও নখ না কাটেন।তবে ইসলামি স্কলাররা বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরো পড়ুন ,১২ মামলায় জামিন বহাল, সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তিতে আর বাধা নেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। হানাফি মাজহাবের আলেমদের মতে, এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়; বরং ‘মুস্তাহাব’ আমল। অর্থাৎ কেউ এটি পালন করলে সওয়াব পাবেন, কিন্তু পালন না করলে গুনাহ হবে না।আলেমরা আরও বলেন, এই আমলের মাধ্যমে একজন মুসলমান কুরবানির ইবাদতের প্রতি সম্মান ও আল্লাহর আদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। যেন পুরো অস্তিত্ব নিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টির অপেক্ষায় থাকেন একজন মুমিন।তবে একটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে—নখ কিংবা নাভির নিচের পশম যেন ৪০ দিনের বেশি না হয়। তাই যদি সেই সময়সীমা অতিক্রমের আশঙ্কা থাকে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী তা কেটে নেওয়া যাবে।ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজকে ইবাদতে রূপ দেওয়ার শিক্ষা দেয়। তাই কুরবানির আগে নখ ও চুল না কাটা বাধ্যতামূলক না হলেও এটি প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি সুন্দর সুন্নতসম্মত আমল হিসেবে ভালোবাসা ও ভক্তির সঙ্গে পালন করা যেতে পারে।