রাজনৈতিক পরিচয়ে দাপট, উত্তরায় হোটেলজুড়ে অনৈতিক সাম্রাজ্য বিস্তার
রাজধানী ঢাকা শহরের উত্তরাংশে অবস্থিত আধুনিক পরিকল্পিত এলাকা উত্তরা দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন, বাণিজ্য ও নাগরিক সুবিধার জন্য পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকার কিছু আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অপরাধ চক্র এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিস্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব হোটেলের আড়ালে গড়ে উঠছে অপরাধের এক অন্ধকার জগৎ।স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী এবং অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাহপুর ৯ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল গ্র্যান্ড প্লাজা সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলটির একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে এসকর্ট সার্ভিস” নামের আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ নারী সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, রাত গভীর হলেই সেখানে অচেনা মানুষের আনাগোনা বাড়ে এবং নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়।আরও পড়ুন, লামায় শান্তিনিকেতনে ভুল রিপোর্টে আতঙ্ক, দায় এড়ালেন মালিকএই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হিসেবে সোহেল” নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তিনি নিজেকে পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এত সুসিক্ষিত হলে কেন এসব ব্যবসা করছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ফ্লোরে নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।একাধিক সূত্র জানায়, সোহেল প্রকাশ্যে হুমকিমূলক ভাষায় বলেছেন, আমার হোটেলের কোনো তথ্য বাইরে গেলে বা কোন সাংবাদিক প্রকাশ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ধরে এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার সকল নেতা ও পুলিশ প্রসাশনের সাথে উঠাবসা । আর পশ্চিম থানার পুলিশ প্রসাশন কোন বিষয় না। অন্যদিকে, একই এলাকার আরেকটি আবাসিক হোটেল আকবর হোটেল নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। জানা গেছে, ওই হোটেলের একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে স্পা” ব্যবসার নামে ইমরান” নামের এক ব্যক্তি আরেকটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই স্পা সেন্টারের আড়ালে একই ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে সার্ভিস” নামে মূলত অসামাজিক ব্যবসা চলছে।আরও পড়ুন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে প্রতারণাস্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, এসব হোটেলের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে বসবাসকারী মানুষজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, রাতে সন্দেহজনক গাড়ি ও লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে থাকি। কিন্তু রাতের পর থেকে যে পরিবেশ তৈরি হয়, তা খুবই অস্বস্তিকর। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও দেখা যায় না।”আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উত্তরা পশ্চিম থানার এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর আবাসিক এলাকায় হোটেল ব্যবসার যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ বাড়তেই থাকবে। তাদের মতে, লাইসেন্স প্রদান, নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।আরও পড়ুন, সাভারে দুর্নীতির অভিযোগে সাব রেজিস্টার প্রত্যাহার, বিভাগীয় মামলা দায়েরসামাজিক বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধ চক্র গড়ে ওঠা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেমন অবনতি ঘটে, তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থাও কমে যায়।এদিকে, স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়, স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা দ্রুত এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বলা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উত্তরায় এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। আবাসিক হোটেলগুলো যদি সত্যিই অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়ে থাকে, তবে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থার জন্যই হুমকি। প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মধ্য দিয়েই কেবল এই অন্ধকার জগতের অবসান সম্ভব এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তবে এবিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জে নিকট গণমাধ্যম কর্মীিরা একাধিক অভিযোগ করেন।